মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো, ইসরায়েল কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ পথে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় যুদ্ধজাহাজ, নৌ কমান্ড কেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র, মেরামত কেন্দ্র এবং কয়েক ডজন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলাটি ইরানের বন্দর আনজালি বন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যে ড্রোন, গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম চলাচলের একটি প্রধান পথ। কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও ইরানের জন্য একটি সুরক্ষিত করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রবেশাধিকার নেই। এই হামলাটি সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
রাশিয়া-ইরান অস্ত্র সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ বিচ্ছিন্ন
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের শাহেদ ড্রোন, লক্ষ লক্ষ কামানের গোলা এবং গোলাবারুদ এই পথ দিয়ে রাশিয়ায় পরিবহন করা হচ্ছিল। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করে। এই সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করতে ইসরায়েল বন্দর আনজালি বন্দরে হামলা চালায়। এই হামলায় যুদ্ধজাহাজ, নৌ কমান্ড কেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র, মেরামত কেন্দ্র এবং কয়েক ডজন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। দৃশ্যপটে অসংখ্য জাহাজ ধ্বংস এবং বন্দরের নৌ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি দেখা গেছে।
হামলার বিষয়ে রাশিয়া কী বলেছে?
বন্দর আনজালি শুধু অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্রই নয়, এটি গম ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের একটি বাণিজ্য পথও বটে। এই হামলা বাণিজ্য কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে, যা আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তাকে সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। রাশিয়া এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি বেসামরিক বাণিজ্য কেন্দ্রের ওপর হামলা বলে অভিহিত করেছে। মস্কো সতর্ক করেছে যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে রাশিয়া ও ইরান শীঘ্রই বিকল্প পথ খুঁজে নেবে, ইসরায়েল প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নির্ভুল ও অপ্রত্যাশিত হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।








