আমেরিকার প্রাক্তন তথা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের একবার খবরের শিরোনামে। সম্প্রতি ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, খামেনেই তাঁকে অন্তত দু’বার হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। গত কয়েক মাস ধরেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ছিল, বিশেষ করে যখন থেকে তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শত্রুপক্ষ তাঁকে খতম করার আগেই তিনি পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছেন। ট্রাম্পের কথায়, খামেনেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুঁটি সাজিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারের মাঝেই একাধিকবার ট্রাম্পের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে পেনসিলভানিয়ায় এক জনসভায় তাঁর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সেই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সরাসরি যোগসূত্র তখন প্রমাণিত হয়নি। তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক দাবি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তিনি রীতিমতো উল্লাস প্রকাশ করে বলেন যে, খামেনেই তাঁকে মারার আগেই তিনি নিজে খামেনেইকে সরিয়ে দিতে পেরেছেন। এই মন্তব্য পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। কাসেম সোলেমানির মৃত্যুর পর থেকেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ছায়াযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ট্রাম্প মনে করেন, খামেনেইর মৃত্যু মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে এবং তাঁকে সশরীরে সরিয়ে দিতে তেহরান সক্রিয় ছিল। ট্রাম্পের এই দীর্ঘায়িত রাজনৈতিক লড়াইতে ইরান বরাবরই একটি বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে সাইবার হামলা এবং গুপ্তহত্যার চেষ্টার একাধিক নথিপত্র মার্কিন প্রশাসনের হাতে এসেছিল। ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, তাঁর প্রশাসন দেশের শত্রু চিহ্নিত করতে এবং তাদের দমন করতে কখনও পিছপা হবে না। খামেনেইর হত্যার ঘটনায় ট্রাম্পের এই উল্লাস এবং পাল্টা অভিযোগ বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউসে ফেরার লড়াইয়ে এই ইস্যুটিকে ট্রাম্প হাতিয়ার করতে চাইছেন বলেও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের টানটান উত্তেজনার মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘আগেভাগে আঘাত’ হানার তত্ত্ব মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল। ইরান এই মুহূর্তে তাদের নেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ এবং আগামী দিনে এর প্রভাব গোটা বিশ্বের কূটনীতিতে লক্ষ্য করা যাবে।







