মার্কিন রাজনীতিতে জেফরি এপস্টাইন মামলা এক দীর্ঘস্থায়ী রহস্যের নাম। গত রবিবার এক রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারি বা বিচার বিভাগের রেকর্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। এই সাংসদ বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অধীনে থাকা এপস্টাইন অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ নথিপত্র প্রকাশের জন্য লড়াই করছেন। ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি জানান, ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ করলেও এপস্টাইন ফাইলগুলো গায়েব হয়ে যাবে না। দীর্ঘকাল ধরেই এপস্টাইন মামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক টানাপোড়েন চলছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এই কুখ্যাত অপরাধীর ঠিক কী ধরণের সম্পর্ক ছিল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল রয়েছে। আইনপ্রণেতার অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে মাঝেমধ্যেই বিদেশি সংঘাতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় যাতে জনমানসের নজর গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি নাছোড়বান্দা। নথিপত্র প্রকাশের দাবিতে তিনি অনড়। ওই রিপাবলিকান সাংসদ তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার স্বার্থেই এপস্টাইন নেটওয়ার্কের সমস্ত কুকীর্তি এবং তার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের নাম সামনে আসা উচিত। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার অনেক তথ্যই এখনও জনসমক্ষে আসেনি। সমালোচকদের একাংশের ধারণা, এই নথিপত্র প্রকাশ পেলে অনেক হেভিওয়েট নেতার মুখ পুড়তে পারে। সেই কারণেই যুদ্ধের মতো বড় ইস্যু তৈরি করে বিষয়টিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টাইনের বিরুদ্ধে যৌন পাচার এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ছিল। তাঁর মৃত্যুর পরেও এই মামলার রেশ কাটেনি। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে এই ধরণের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সাংবাদিক সম্মেলনে ওই আইনপ্রণেতা বলেন, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে তাদের করের টাকায় চলা বিচার বিভাগ কোন নথিপত্র কেন লুকিয়ে রাখছে। তিনি আরও বলেন, বোমা বা যুদ্ধের উত্তাপ এপস্টাইন কেলেঙ্কারির নথি পুড়িয়ে ফেলতে পারবে না। নথিপত্র প্রকাশের এই লড়াই তিনি শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন বলে হুঙ্কার দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশারদদের মতে, এই বিবৃতি ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হতে পারে। বিশেষত যখন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক এক স্পর্শকাতর জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের অন্দরেই যে এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তা এই সাংসদের কড়া অবস্থান থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এপস্টাইন সংক্রান্ত ফাইলগুলোতে ঠিক কী কী তথ্য রয়েছে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে। তবে নথিপত্র প্রকাশের দাবি যে আরও জোরালো হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প শিবির এই সরাসরি আক্রমণের জবাবে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিদেশের মাটিতে বোমাবর্ষণ বনাম দেশের ভেতরের বিচারবিভাগীয় স্বচ্ছতা—এই দুইয়ের লড়াই এখন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।







