কলকাতা ও সংলগ্ন রেলওয়ে এলাকায় যাত্রী সুরক্ষা ও পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই অগ্রাধিকার পায়। এবার সেই লক্ষ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, রেল লাইনের ওপর দিয়ে যাতায়াতের সময় ঘটা অকাল দুর্ঘটনা ঠেকাতে এবং যান চলাচলের পথ সুগম করতে নতুন করে সাতটি নিম্ন উচ্চতার সাবওয়ে (লো-হাইট সাবওয়ে) নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকায় রেল ক্রসিং সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা।
পূর্ব রেলের এক উচ্চপদস্থ মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকার রেল ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার হার এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলির যেসব এলাকায় রেল লাইনের ওপর দিয়ে স্থানীয়দের যাতায়াত করতে হয়, সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এই সাবওয়েগুলো অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। রেলের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার পেয়েছে এমন সব জায়গা, যেখানে বর্তমানে অরক্ষিত রেল ক্রসিং বা বিপদজনক পারাপারের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে।
নতুন অনুমোদিত এই সাবওয়েগুলো সাধারণ সাবওয়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন আদলে তৈরি হবে। এর উচ্চতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যাতে পথচারী এবং ছোট যানবাহন সহজেই পারাপার করতে পারে। রেলের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর দ্রুতগতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে যাতে যথাসময়ে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়।
রেল সুরক্ষা এবং যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নে পূর্ব রেল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর আগে একাধিক স্থানে আন্ডারপাস বা ওভারব্রিজ তৈরি করে রেল ক্রসিং তুলে দেওয়ার কাজ হয়েছে। সেই ধারায় এই সাতটি সাবওয়ে যুক্ত হলে পূর্ব রেলের আওতাধীন লাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে রেল লাইনের ওপর জল জমার কারণে যেসব এলাকা দুর্গম হয়ে পড়ে, সেখানেও এই ধরনের পরিকাঠামো নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট কোন কোন এলাকায় সাবওয়েগুলো তৈরি হবে, সে বিষয়ে বিশদ তথ্য এই মুহূর্তে রেলের তরফ থেকে সরকারিভাবে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কথায়, প্রকল্পের সমীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই স্থানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথেও এ বিষয়ে সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করা হবে যাতে জমি অধিগ্রহণ বা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করা যায়।
যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রেনের গতিবেগ ঠিক রাখা এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও জোর দিয়েছে পূর্ব রেল। রেল ক্রসিং না থাকলে ট্রেন চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন রাখা সহজ হয়, যা পরোক্ষভাবে ট্রেনের সময়সূচী ঠিক রাখতেও সাহায্য করে। এই সাতটি সাবওয়ে নির্মাণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পারবেন, তেমনি রেল পরিষেবায় বিলম্বের সম্ভাবনাও কমবে।
সামগ্রিকভাবে, পূর্ব রেলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকায় অরক্ষিত ক্রসিং বা বিপজ্জনক পারাপারের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাতে হতো, সেখানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন বাসিন্দারা। নির্মাণকাজ চলাকালীন যাতে কোনোভাবেই ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টিও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা হবে বলে রেলের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। রেলের সুরক্ষা পরিকাঠামোয় এই সংযোজনকে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ব্যয়ভার এবং নির্মাণকালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী দিনে প্রকাশ করা হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।








