রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা তৈরি করে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিবি আনন্দ বোস। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার ঠিক আগেই রাজভবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাঁর সরে যাওয়া নিয়ে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আনন্দ বোস তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ের পেছনে ‘আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে’ (Enough for me) বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ ব্যাখ্যা উঠে আসছে। বিশেষত, কোনো পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা ছাড়াই তাঁর এই প্রস্থানের ধরণ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরও অবাক করে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদত্যাগের খবর শুনে নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক এবং সরাসরি কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যপালের ওপর দিল্লির পক্ষ থেকে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম জড়িয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে আসা কোনো বিশেষ চাপের কারণেই আনন্দ বোস এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, রাজ্যপালের মতো একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারী যখন নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে সরে যান, তখন তার পেছনে বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকা অস্বাভাবিক নয়।
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রাজ্যপালের পদত্যাগ একটি রুটিন প্রক্রিয়া বা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস যে অভিযোগ তুলছে, তার কোনো তথ্যগত ভিত্তি নেই বলেই গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, প্রতিটি ঘটনার পেছনেই কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বা অমিত শাহের চাপ দেখার প্রবণতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ধরণের রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের আগে জল ঘোলা করতেই এই ধরণের তত্ত্ব সাজানো হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
সিবি আনন্দ বোসের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এল যখন বাংলার রাজনীতির পারদ চড়ছে। রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়, কিন্তু তাঁর পদত্যাগের এই ভঙ্গিটি একটি বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। কেন্দ্রীয় সরকার এই শূন্যস্থানে নতুন কাকে নিয়োগ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা যে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী এবং শাসক দল উভয়ের জন্যই একটি বড় প্রচারের ইস্যু হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আনন্দ বোসের এই ‘যথেষ্ট হয়েছে’ মন্তব্যের পেছনে আসলে ঠিক কী কারণ লুকিয়ে আছে, তা আগামীর ঘটনাক্রমেই আরও স্পষ্ট হবে।







