দার্জিলিংয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১.৪ লাখ নাম, বিজেপি সাংসদকে ঘিরে পোস্টার

দার্জিলিং ও পাহাড়ের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকায় বড়সড় কাটছাঁট। প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকাভুক্ত না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর। শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বিজেপি সাংসদ রাজু বিষ্টের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার পড়েছে, যা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।পোস্টারের বয়ানে সরাসরি সাংসদকে আক্রমণ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে যে, যখন পাহাড়ের মানুষ বিপদে পড়ছেন, তখন সাংসদ কোথায়? ভোটার তালিকা থেকে এত মানুষের নাম বাদ পড়া সত্ত্বেও কেন তিনি নিরব ভূমিকা পালন করছেন, সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছে জনসাধারণের পক্ষ থেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ের জনবিন্যাস এবং ভোটাধিকার নিয়ে এই ধরনের গাফিলতি মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে যেখানে পাহাড়ের মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন, সেখানে নাগরিক অধিকারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ভোটার কার্ড নিয়ে এই বিভ্রান্তি বড়সড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রের শাসক দল ও তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবিত নন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কেন এত বড় ত্রুটি রয়ে গেল, তার উত্তর চাইছেন সাধারণ ভোটাররা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে বসবাস করছেন বা যারা বিগত নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন, রহস্যজনকভাবে তাদের নাম এবার চূড়ান্ত তালিকায় নেই। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচনী দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতেই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়।

তবে যদি কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তারা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবার আবেদন করতে পারেন।কিন্তু তাতে ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, ভোটের আগে এই ধরনের বিভ্রান্তি আসলে পরিকল্পিত কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। রাজু বিষ্ট গত নির্বাচনে পাহাড় থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সংসদীয় এলাকায় এই ব্যাপক জনক্ষোভ বিজেপির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিলিগুড়ির বিভিন্ন দেওয়ালে এবং প্রকাশ্য স্থানে লাগানো এই পোস্টারগুলি নির্দেশ করছে যে, পাহাড়ের রাজনীতি আগামী দিনে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। পাহাড়ের অনেক পরিবারেরই অভিযোগ, তারা সরকারি সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম দেখতে পাচ্ছেন না। এর ফলে তারা নাগরিকত্ব বা পরিচয় সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

এই ইস্যুতে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলি পাল্টা চাল দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই ১.৪ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় এবং সাংসদ রাজু বিষ্ট এই জনরোষ কীভাবে মোকাবিলা করেন। পাহাড়ের মানুষের ক্ষোভ যে কেবল একটি পোস্টারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণসংগঠন সরব হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষ চাইছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান। এই টানাপোড়েনের মাঝেই লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে, যেখানে ভোটার তালিকা এই মুহূর্তে সবথেকে বড় হাতিয়ার।