বিচারবিভাগে দুর্নীতি নিয়ে বিতর্কিত বই নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা এনসিইআরটির

নয়াদিল্লি: ভারতের বিচারবিভাগ এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একটি পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি (NCERT) তাদের একটি পাঠ্যবইয়ে বিচারবিভাগে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উত্থাপন করায় সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়ে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা গ্রহণ করলে এনসিইআরটি তাদের ভুল স্বীকার করে নেয়। আদালতের কাছে পেশ করা হলফনামায় সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি তাদের একটি ‘বিবেচনার ভুল’ ছিল এবং এই অনভিপ্রেত বিষয়বস্তু বইটিতে যুক্ত হওয়ায় তারা লজ্জিত। এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষ সাফাই দিয়েছে যে, ওই বিতর্কিত অংশটি ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ বইয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, ওই নির্দিষ্ট বইটি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এর আর কোনও নতুন কপি বিতরণ করা হবে না। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন আইন মহলের একাংশ এবং বিচারকরা লক্ষ্য করেন যে, এনসিইআরটির একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে ‘দুর্নীতি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত আপত্তিজনক। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিচারবিভাগ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল স্তম্ভ। সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এমন কোনও বার্তা দেওয়া যা বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে, তা নিয়ে আদালত কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা মন্তব্য করেন যে, ভুল তথ্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এনসিইআরটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা কমিটি প্রতি বছরই বইগুলি আপডেট করে, কিন্তু এই বিষয়টি কেন তাঁদের নজর এড়িয়ে গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, পাঠ্যক্রম থেকে ওই বিতর্কিত অংশটি অবিলম্বে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনসিইআরটি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে এবং কোনওভাবেই আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমাপ্রার্থনা এবং বই বিতরণে স্থগিতাদেশের ফলে আইনি জটিলতা কিছুটা প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শিক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠছে যে, কীভাবে একটি জাতীয় স্তরের শিক্ষা সংস্থায় এত বড় ভুল নজর এড়িয়ে গেল। পাঠ্যপুস্তক তৈরির প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার দাবি তুলেছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। এনসিইআরটি জানিয়েছে যে, নতুন করে সংশোধিত বই দ্রুত শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তাদের পড়াশোনায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে। আপাতত বিতর্কিত সব কপি গুদামজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোনও ই-বুক বা পিডিএফ সংস্করণ যাতে অনলাইনে না থাকে সেদিকেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিচারবিভাগের সম্মান রক্ষা করা এবং সঠিক তথ্য প্রচার করাই যে তাদের মূল লক্ষ্য, তা পুনরুল্লেখ করেছে এই সংস্থা।