ভারতের অন্তত ছয়টি রাজ্যে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক বিশাল জাল বিছিয়েছিল। সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে গত কয়েকদিন ধরে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট এবং হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন ডেরায় হানা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের মূল পান্ডাদের হদিশ পায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। সিবিআই-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন তারা একটি অত্যন্ত জটিল এবং আধুনিক নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছেন যা একাধিক রাজ্য ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও বিস্তৃত রয়েছে। জালিয়াতির এই নতুন ধরনে প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ বা সিবিআই আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভিকটিমদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং তাদের বাড়িতেই ‘ডিজিটালভাবে’ বন্দি থাকার নাটক করতে বাধ্য করে। মূলত মাদক পাচার বা অর্থ পাচারের মামলায় নাম জড়িয়েছে এমন মিথ্যে ভয় দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়াই ছিল এদের মূল লক্ষ্য। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথি, হার্ড ড্রাইভ এবং একাধিক মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিবিআই কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে, উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণে বিদেশি সংযোগের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী কিছু দেশ থেকে এই চক্র পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ধৃত তিনজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছে যে, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হতো, যাতে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া যায়। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল এবং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের টার্গেট করত। এই তদন্তের গভীরে যাওয়ার জন্য সিবিআই এখন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের সঙ্গেও যোগাযোগ করার কথা ভাবছে। দেশে এই প্রথম এত বড় মাপের কোঅর্ডিনেটেড তল্লাশি চালিয়ে এই ধরণের প্রতারকদের জালে তোলা সম্ভব হলো। কেন্দ্রীয় সরকার এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগ বারবার এই ধরণের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ থেকে সতর্ক থাকতে বললেও প্রতারকদের কৌশলের কাছে হার মানছেন সাধারণ মানুষ। এই গ্রেফতারি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও অনেক রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে বলে সিবিআই আধিকারিকরা মনে করছেন। প্রতিটি লেনদেনের উৎস এবং কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে কলগুলো করা হয়েছিল তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সিবিআই এই অভিযান আরও জোরদার করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের প্রতারণা রুখতে শুধু তল্লাশি নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা গড়ে তোলাও সমান জরুরি। সিবিআই জানিয়েছে যে তারা ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেবে এবং তাদের জেরা করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে।








