নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আবারও পাকিস্তানি ড্রোন, রাজৌরিতে হাই অ্যালার্ট, এলাকা জুড়ে নজরদারি সেনাবাহিনীর

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর আবারও ড্রোন তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে । রাজৌরি সেক্টরে সীমান্ত পেরিয়ে একটি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। এর পর সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। সেনারা এখন স্থল ও আকাশ উভয় দিক থেকেই সীমান্ত এলাকাগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।

সেনা সূত্র অনুযায়ী, ২৮শে আগস্ট রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে রাজৌরি সেক্টরে ড্রোন তৎপরতা দেখা গেছে। ড্রোনটিকে ২২ জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলসের আওতাধীন বেহরোটি এলাকার উপর কিছুক্ষণের জন্য উড়তে দেখা যায়।

ড্রোনের তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ

ড্রোনটি শনাক্ত হওয়ার পর সেনারা সেটির গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। জানা গেছে, সেটিকে মঙ্গলনার-ডাব্রোটের দিকে যেতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী তথ্যটি নথিভুক্ত করে এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে।

সীমান্ত পেরিয়ে আসা ড্রোন নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এগুলো অস্ত্র, মাদকদ্রব্য বা অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী ফেলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তাই, ড্রোন দেখা যাওয়ার পর আশেপাশের এলাকাগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

স্থলভাগেও তল্লাশি শুরু হয়েছে

রাজৌরির সম্মুখবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কতা বাড়িয়েছে। সৈন্যরা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর ক্রমাগত নজর রাখছে। ড্রোন থেকে কোনো বস্তু ফেলা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও তল্লাশি অভিযান চলছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ড্রোনটির আগমনের উদ্দেশ্যও জানার চেষ্টা করছে। বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে নজরদারি চলছে।

নিয়ন্ত্রণ রেখায় ড্রোন উপস্থিতি উদ্বেগের কারণ কেন?

নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ড্রোনের কার্যকলাপ নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য উদ্বেগের কারণ। ছোট ড্রোনগুলো নিচু দিয়ে উড়তে পারে এবং দূর থেকে সবসময় সহজে দেখা যায় না। এগুলো সীমান্ত বরাবর নজরদারি বা রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই কারণেই রাজৌরিতে ড্রোন তৎপরতার খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না। সীমান্ত বরাবর স্থল ও আকাশপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বর্তমানে পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। ড্রোনটির উৎস, এর উদ্দেশ্য এবং এটি কোনো বস্তু নিক্ষেপ করেছিল কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটি সম্পর্কে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কাছ থেকে আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।