Himanta Biswa Sarma: যাত্রার দ্বিতীয় দিনে বুলডোজার স্যালুট পেলেন হিমন্ত

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বর্তমানে তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ পালন করছেন। এই যাত্রার দ্বিতীয় দিনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। রাস্তার দুধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বুলডোজারগুলি মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়, যাকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ‘বুলডোজার স্যালুট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি যান্ত্রিক প্রদর্শনী ছিল না, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই স্যালুট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই বিশেষ অভিবাদন আসলে রাজ্য সরকারের অবিরাম সঙ্কল্পের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের ক্ষেত্রে তাঁর সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এই বুলডোজারগুলি তারই প্রতীক।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই স্যালুট সেই প্রতিশ্রুতিকেই বারবার মনে করিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, অসমে গত কয়েক বছরে একাধিক জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে বনভূমি এবং মন্দিরের জমি দখলমুক্ত করতে এই ধরণের কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে পুলিশ ও প্রশাসনকে। সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে বিভিন্ন আঙ্গিকে দেখলেও, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর এই ‘বুলডোজার মডেল’ থেকে এক চুলও নড়তে রাজি নন। তাঁর মতে, রাজ্যের সম্পদ সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং আইনি শাসন কায়েম করতে এই ধরণের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে। যাত্রার দ্বিতীয় দিনে মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে মুখ্যমন্ত্রী আপ্লুত। তিনি দাবি করেছেন যে, সাধারণ মানুষ এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক ভাবেই গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় জনসভার মাধ্যমে তিনি সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধাসমূহ জনগণের সামনে তুলে ধরছেন।

বুলডোজারের এই স্যালুটকে তিনি তাঁর সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জয় হিসেবেই দেখছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড় এবং এই বিশেষ ধরণের অভিবাদন প্রমাণ করে যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জনপ্রিয়তা এবং তাঁর প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরপ্রদেশের পথ অনুসরণ করে অসমও এখন ‘বুলডোজার’ সংস্কৃতিকে সুশাসনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। হিমন্তের এই যাত্রা এবং বুলডোজার স্যালুট আগামী নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরকে এক জোরালো বার্তা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আবারও আশ্বস্ত করেছেন যে, জনস্বার্থে এবং রাজ্যের অখণ্ডতা বজায় রাখতে তাঁর সরকার ভবিষ্যতে আরও কড়া সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না। এই যাত্রা আগামী কয়েক দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলবে এবং সরকার প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।