Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’ এখন ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’: আজ থেকেই অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা, কারা বঞ্চিত থাকছেন?

খবর এইসময় ডেস্কঃ  রাজ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রদবদলের পর নাম বদলাল অন্যতম চর্চিত আবাসন প্রকল্পের। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। নাম পরিবর্তনের পরপরই রাজ্যের গৃহহীন মানুষের জন্য বড় ঘোষণা দিল বর্তমান রাজ্য সরকার। আজ, ৬ আগস্ট থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকতে শুরু করছে এই প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। নবান্ন সভাঘর থেকে আনুষ্ঠিকভাবে এই অর্থপ্রদান কর্মসূচির সূচনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তবে প্রথম কিস্তিতে টাকা পাওয়া সবাই কিন্তু এই দফায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না। ঠিক কারা পাচ্ছেন এই সুবিধা আর কারা বাদ পড়ছেন? দেখে নিন বিস্তারিত।
১০ লক্ষ পরিবার পাচ্ছে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা
বিগত তৃণমূল জমানায় আবাসন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের আগে, গত এপ্রিল মাসে। সেই সময় প্রায় ১৮ লক্ষ পরিবারকে প্রথম কিস্তির সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকেই থমকে ছিল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কিস্তিতে নাম থাকা সেই ১৮ লক্ষ পরিবারের মধ্য থেকেই বাছাই করা ১০ লক্ষ পরিবারকে এবার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
কারা পাবেন না দ্বিতীয় কিস্তির টাকা?
দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দফতরের সচিব পি উলগানাথনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সমীক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে:
১. লিন্টেল স্তর পর্যন্ত কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে: নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির টাকা ব্যবহার করে যাঁদের বাড়ির নির্মাণকাজ অন্তত ‘লিন্টেল স্তর’ (দরজা-জানলার ওপরের ঢালাই) পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, একমাত্র তাঁদেরই দ্বিতীয় কিস্তির যোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে। যে প্রায় ৮ লক্ষ পরিবার এখনো সেই পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেননি, তাঁরা এই দফায় টাকা পাচ্ছেন না।
২. ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তা ছাঁটাই: অতীতে আবাসন প্রকল্পে ভূয়ো এবং অযোগ্য উপভোক্তাদের নাম ঢুকে পড়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ফলে নাম পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রতিটি নাম নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই (ভেরিফিকেশন) করা হয়েছে। এই কড়া তল্লাশিতে যে সমস্ত নাম ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য
প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যাতে সঠিক এবং প্রকৃত উপভোক্তার হাতে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা। যে সমস্ত পরিবার এখনো লিন্টেল স্তর পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেননি, তাঁরা নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট সীমানায় নিয়ে এলে পরবর্তী ধাপে তাঁদের কিস্তির টাকা ছাড়া হবে বলে জানা গিয়েছে। আজকের এই অর্থপ্রদানের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার পাকা ছাদ পাওয়ার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন রাজ্যের ১০ লক্ষ পরিবার।