Typhoon Dolphin: সুপার টাইফুন ডলফিনের চোখ জাপানে, প্রভাব পড়বে বঙ্গোপসাগরেও: থমকে যেতে পারে ভারতের বর্ষা!

খবর এইসময় ডেস্কঃ   জাপানের উপকূলীয় দ্বীপপুঞ্জের দিকে চোখ রাঙিয়ে ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন ডলফিন’। ঘণ্টায় প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের সরাসরি ধাক্কা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে লাগলেও, এর পরোক্ষ আঁচ থেকে বাদ যাচ্ছে না ভারতও। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এই প্রকাণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বদলে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরের বায়ুমণ্ডলীয় গতিপথ, যার ফলে ভারতের একাধিক রাজ্যে বর্ষার বৃষ্টি সাময়িকভাবে থমকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাপানে তাণ্ডবের পূর্বাভাস বর্তমান অবস্থান

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন ডলফিন বর্তমানে মিনামিডাইতো দ্বীপের প্রায় ৫৪০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে এবং ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে ঝড়ের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার হলেও, সর্বোচ্চ দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছাচ্ছে ২১কিলোমিটারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি রিউকিউ এবং আমামি দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। কিছু এলাকায় ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত রেকর্ড বৃষ্টির পাশাপাশি সমুদ্রে ১০ থেকে ১১ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরে কী প্রভাব পড়বে?

যদিও ডলফিন ভারত মহাসাগর বা বঙ্গোপসাগরে সরাসরি আছড়ে পড়বে না, তবুও বিশাল আয়তনের এই ঝড়টি সমগ্র এশীয় মৌসুমী বায়ুর স্বাভাবিক গতিকে প্রভাবিত করছে।

১. আর্দ্রতা শোষণ শক্তির প্রতিযোগিতা: বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানীদের মতে, শক্তিশালী টাইফুন ও ভারতীয় মৌসুমী বায়ুর মধ্যে তাপ ও আর্দ্রতা নিয়ে এক ধরনের অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলে। প্রশান্ত মহাসাগরে ডলফিনের তীব্রতার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ও বায়ুমণ্ডলীয় শক্তি ওই ঝড়ের দিকে টানা হচ্ছে।

২. নিম্নচাপ গঠনে বাধা: বঙ্গোপসাগর হলো ভারতের মূল বর্ষার প্রাণকেন্দ্র, যেখানে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হয়ে মধ্য, পূর্ব ও উত্তর ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়। কিন্তু ডলফিনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে বজ্রগর্ভ মেঘ ও নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

৩. মৌসুমী অক্ষরেখার পরিবর্তন: এই অতি-শক্তিশালী ঝড়ের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের বায় প্রবাহ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার অবস্থান সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, যা ভারতে সামগ্রিক বর্ষার বিন্যাসকে এলোমেলো করে দিতে পারে।

ভারতের ওপর সাময়িকমনসুন ব্রেক‘-এর আশঙ্কা

জাপান ও চীন উপকূলে এই টাইফুন যতদিন সক্রিয় থাকবে, ততদিন বঙ্গোপসাগরে বৃষ্টিবাহী কোনো বড় সিস্টেম গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। এর ফলে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে অস্থায়ীভাবে বর্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হতে পারে এবং শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘস্থায়ী খরা বা ‘মনসুন ব্রেক’-এর সম্ভাবনা খারিজ করেছেন। টাইফুন ডলফিন উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে দুর্বল হয়ে পড়লে বা ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে সরে গেলে বঙ্গোপসাগর ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। বর্তমানে এল নিনো এবং ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD)-এর মতো বড় জলবায়ু উপাদানগুলোও সক্রিয় রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ডলফিনের প্রভাব কাটলেই বঙ্গোপসাগরে পুনরায় শক্তিশালী নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হবে এবং ভারতে পুরোদমে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ফিরে আসবে।