কলকাতার আর.জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফট ব্যবহারে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। সম্প্রতি ওই ভবনের লিফটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার জেরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ঘটনার বিশদ বিবরণ এবং কখন এটি ঘটেছে সেই সংক্রান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে এই আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফটে সম্প্রতি একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই রোগীর আত্মীয় এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসার জন্য আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরণের ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই লিফটে উঠতে দ্বিধা বোধ করছেন, বিশেষ করে যারা ট্রমা কেয়ার ভবনের উপরের তলাগুলিতে যেতে চান। ফলে, হেঁটে সিঁড়ি ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে, যা বয়স্ক রোগী এবং গুরুতর আহতদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর.জি. কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিভাগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরণের গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। এই বিভাগের লিফটের উপর নির্ভরতাও তাই অনেক বেশি। অথচ, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলে লিফট ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া এই ভীতি হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্মকে ব্যাহত করতে পারে। অনেক রোগী, বিশেষ করে যারা গুরুতর আহত বা যাদের শারীরিক অবস্থা নাজুক, তাদের পক্ষে হেঁটে সিঁড়ি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। এর ফলে তাদের চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এবং রোগী ও তাদের আত্মীয়দের মধ্যেকার ভীতি দূর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। লিফটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে সেগুলির আধুনিকীকরণ করা উচিত। পাশাপাশি, এই ধরণের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
ট্রমা কেয়ার ভবনে লিফট নিয়ে তৈরি হওয়া এই আতঙ্ক শুধুমাত্র রোগীর আত্মীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও এই বিষয়ে কিছুটা চিন্তিত। যদিও তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত, তবুও এই ধরণের ঘটনার পর মানুষের মনে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন উদিত হওয়া স্বাভাবিক। লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ এই ঘটনার জন্য দায়ী ছিল কিনা, তা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে, ঘটনার পরেই এই জনবহুল স্থানে লিফট ব্যবহারে অনীহা দেখা দেওয়াটা ইঙ্গিতপূর্ণ।
এই ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর প্রতিটি অংশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোটখাটো ঘটনারও কতদূর প্রভাব পড়তে পারে, তা এই ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফট ব্যবহারের অনীহা থেকেই স্পষ্ট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে রোগীরা নির্ভয়ে তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাগুলি ব্যবহার করতে পারেন। সিঁড়ি ব্যবহার করে বয়স্ক বা গুরুতর আহত রোগীদের উপরে নিয়ে যাওয়াটা কেবল কষ্টকরই নয়, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। লিফটের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
খবরটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন জাগছে – ট্রমা কেয়ার ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন এমন একটি ঘটনা ঘটল? এই ঘটনার পর লিফটটি কি বন্ধ রাখা হয়েছে, নাকি স্বাভাবিকভাবে চলছে? যদি স্বাভাবিকভাবে চলে, তবে মানুষ কেন ব্যবহার করছেন না? এইসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, আশা করা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়ে আলোকপাত করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে আর.জি. কর হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে। এই ধরণের ঘটনাগুলি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই দ্রুত সমাধান কাম্য।
অতিরিক্ত তথ্য: এই ঘটনার পর হাসপাতালের অন্যান্য ভবনের লিফট ব্যবহারকারীদের মধ্যেও কিছুটা সতর্কতামূলক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তবে, ট্রমা কেয়ার ভবনের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক।








