নয়াদিল্লি: রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে প্রশাসনিক সংঘাত ফের চরম আকার ধারণ করল। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক (DM) এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে (CP) কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
সাধারণত অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে কেন্দ্র সরাসরি এই দুই শীর্ষ আধিকারিককে চেয়ে পাঠানোয় নবান্নের সঙ্গে দিল্লির সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি সরকারি কর্মসূচি চলাকালীন প্রোটোকল মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্র এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দার্জিলিংয়ের মতো স্পর্শকাতর জেলার জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কমিশনারেটের প্রধানকে একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা নজিরবিহীন।
প্রশাসনিক স্তরে এই ঘটনার প্রভাব কী পড়বে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে নবান্ন এই আধিকারিকদের ছাড়বে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অতীতেও আইপিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল।
এই ঘটনার ফলে পাহাড় এবং সমতলের প্রশাসনিক কাজকর্মে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলাশাসক এবং পুলিশ কমিশনার পদের দুই অভিজ্ঞ আধিকারিককে কেন্দ্র হঠাৎ করে কেন তলব করল, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়া হলেও, বিষয়টিকে নিছকই প্রশাসনিক রুটিন বদলি হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, রাজ্যের সাথে আলোচনা না করে সরাসরি আধিকারিকদের তলব করা রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল। তবে কেন্দ্রের যুক্তি, সার্ভিস রুল অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে আধিকারিকদের কেন্দ্রে ডাকার ক্ষমতা দিল্লির রয়েছে।
সব মিলিয়ে দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ির এই দুই শীর্ষ আধিকারিকের ভবিষ্যৎ এখন দোদুল্যমান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার এই চিঠির কী উত্তর দেয় এবং কেন্দ্র তার পাল্টা কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহল। এই প্রোটোকল বিবাদ শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







