কলকাতা: কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত প্রায় চার মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া একটি নিম্নচাপ এবং বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির জেরে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষবার কলকাতায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। তারপর থেকে টানা ১২০ দিনেরও বেশি সময় শহরবাসী এক অস্বস্তিকর শুষ্ক আবহাওয়ার মোকাবিলা করছেন। মার্চ এবং এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা অনেকটা বেশি থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব কমে গিয়ে এখন সাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে আর্দ্রতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আলিপুর অফিসের সূত্রমতে, এই বৃষ্টির প্রভাবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একধাক্কায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বৃষ্টির সাথে সাথে ভ্যাপসা গরম বা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। কৃষিজীবীদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে, বিশেষ করে যারা বোরো ধান বা গরমের সবজি চাষ করছেন। অন্যদিকে, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে এটি হবে চলতি বছরের প্রথম কালবৈশাখী সদৃশ বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসের রাডার চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা সীমান্তের দিক থেকে মেঘপুঞ্জ ধীরে ধীরে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সাধারণত মে মাসের শুরুর দিকেই কলকাতায় প্রাক-বর্ষা বৃষ্টি শুরু হয়, কিন্তু এবারের খরা পরিস্থিতি ছিল গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম ব্যতিক্রমী। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং স্থানীয় এল নিনোর প্রভাবে ভারতের অনেক রাজ্যেই এবার গড় বৃষ্টিপাত কমেছে। তবে স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপটি শক্তিশালী হলে কলকাতার দীর্ঘ চার মাসের খরা কাটবে বলেই আশা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ মানুষকে এই সময়ে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে না থাকাই শ্রেয়। সব মিলিয়ে, এই বৃষ্টি কলকাতার রুক্ষ প্রকৃতিতে যেমন স্বস্তি আনবে, তেমনই নাগরিকদের হাঁসফাঁস করা গরম থেকে মুক্তি দেবে। এই মূহুর্তে সারা বাংলা যখন বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষায়, তখন আবহাওয়া দপ্তরের এই বার্তা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।








