নেপালের বন্যার মধ্যে বিহারের বাসিন্দাদের মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কতা জারি

বিহারের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যা কবলিত। এদিকে, বিহার সরকার জনগণকে মাছ না খাওয়ার জন্য একটি পরামর্শ জারি করেছে। দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মৎস্য বিভাগ সোমবার (৩১ আগস্ট, ২০২৬) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। 

জানা গেছে, নেপাল থেকে আসা বন্যার জলের সঙ্গে বিহারের কিছু এলাকায় অজানা ও অস্বাভাবিক প্রজাতির মাছ এসে পৌঁছেছে। এই মাছ খেয়ে কিছু লোক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। 

বিভাগটি জানিয়েছে যে, বন্যার সময় পুকুর, নদী, হ্রদ ও জলাধার থেকে মাছ বেরিয়ে আসে এবং জলের সাথে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নোংরা নর্দমা, মৃত প্রাণী এবং অন্যান্য আবর্জনার সাথে ক্রমাগত সংস্পর্শের কারণে এই মাছগুলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে। এই ধরনের মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিবেশ স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রাকৃতিক দূষণ ও রোগ সৃষ্টিকারী কারণগুলো নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত বন্যার জলে ধরা মাছ খাওয়া উচিত নয়। বিভাগটি জনগণের নিজেদের স্বার্থেই এই আবেদন জানিয়েছে। 

বিভাগটি বাজারে বন্যার জলে ধরা মাছ বিক্রিও নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়াও, যথাযথ শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিশ্চিতকরণ ছাড়া কোনো অপরিচিত মাছ না খাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।

পরামর্শে বলা হয়েছে যে, এই মাছ খাওয়ার পর যদি বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। এই ধরনের মাছ দেখতে পেলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভাগটি জনগণকে গুজব উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।