RG Kar Case: আরজি কর-কাণ্ডে নয়া মোড়: সঞ্জয়কে ফের জেরার অনুমতি হাইকোর্টের, ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া সিবিআই

Kolkata High Court

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেই অভিশপ্ত রাতের রহস্যভেদে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর সামনে নতুন জানলা খুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে আদালত জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন বিচারপতিরা। আগামী ১২ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

সাজাপ্রাপ্ত অনেক কিছুই জানে’

বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় এই ঘটনার বিষয়ে আরও অনেক তথ্য জানে বলে মনে করা হচ্ছে। বিচারপতি মান্থা স্পষ্টভাবে জানান:

“সাজাপ্রাপ্ত অনেক কিছুই জানে বলে মনে হয়। ফলে যত আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তি রয়েছে, তার সব কিছুই সিবিআই ব্যবহার করুক এই মামলায়।”

সিবিআই-এর হাতে নতুন হাতিয়ার

আদালতের এই নির্দেশ রাজনৈতিক ও আইনি মহলের মতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্যাতিতার পরিবার শুরু থেকেই ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। এদিনের নির্দেশের ফলে:

  • পুনরায় জেরা: সিবিআই চাইলে জেলে গিয়ে সঞ্জয় রায়কে নতুন করে জেরা করতে পারবে।
  • নতুন তথ্য খতিয়ে দেখা: নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে কিছু ডিএনএ প্রোফাইল এবং অডিও রেকর্ড জমা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই এই নতুন তথ্যগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট দেবে।
  • ঘটনাস্থল পরিদর্শন: নির্যাতিতার পরিবার পুনরায় আরজি করের সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চেয়েছিল। সিবিআই এতে সম্মতি দিলেও রাজ্য সরকারের আপত্তিতে প্রশ্ন তোলে আদালত।

ফাঁসি বনাম খালাসের লড়াই

শিয়ালদহ আদালত ইতিপূর্বেই সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সিবিআই সঞ্জয়ের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন জানায়। অন্যদিকে, সঞ্জয় রায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাসের আর্জি জানিয়েছে। বিচারপতি মান্থা স্পষ্ট করে দেন যে, মৃত্যুদণ্ড এবং খালাসের আবেদন—উভয় মামলার শুনানি একসঙ্গেই করা প্রয়োজন।

পটভূমি ও আগামী পদক্ষেপ

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০২৫-এর ২০ জানুয়ারি নিম্ন আদালত সঞ্জয়কে আজীবন কারাবাস দিলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। এরপর সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে মামলাটি ফের হাইকোর্টে ফেরে।

আগামী ১২ মে মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন সিবিআই-এর তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) নির্যাতিতার পরিবারের দেওয়া অতিরিক্ত হলফনামার ভিত্তিতে নিজের বক্তব্য জানাতে হবে। এখন দেখার, আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণের পর তদন্তের জাল কতদূর বিস্তৃত হয় এবং নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে কি না।