বারুইপুর কাণ্ড: আক্রান্তদের পাশে শুভেন্দু, মাদক ঠেক উচ্ছেদের দাবি

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক কারবারের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সেখানে যান তিনি। বারুইপুরের ওই এলাকায় পৌঁছে আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। এই পরিদর্শনের পর তিনি স্থানীয় এলাকায় সক্রিয় বেআইনি মাদক চক্র এবং চোলাই মদের ব্যবসার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে এই সমস্ত অবৈধ ঠেকগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এদিন বারুইপুরে পৌঁছে বিরোধী দলনেতা সরাসরি আক্রান্ত পরিবারের বাড়িতে যান। তাঁদের মুখ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনেন। আক্রান্ত পরিবারের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় স্তরে পুলিশের একাংশের মদতেই এই এলাকায় দিনের পর দিন ধরে রমরমিয়ে চলছে মাদকের কারবার। বেআইনি নেশার কবলে পড়ে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলেই অপরাধমূলক কার্যকলাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়। আক্রান্তদের পাশে আমরা সব রকমভাবে আছি। কিন্তু প্রশাসন কেন এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিল, সেই প্রশ্ন তুলতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।”

বারুইপুরের এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদকের ঠেক এবং অসামাজিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী এদিন পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই সমস্ত মাদক চক্রের পান্ডাদের গ্রেফতার করতে হবে এবং এলাকায় যত বেআইনি মাদকের ঠেক রয়েছে সেগুলি সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। পুলিশ যদি অবিলম্বে এই পদক্ষেপ না করে, তবে आगामी দিনে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এই সফরকে কেন্দ্র করে বারুইপুর এলাকায় এদিন ব্যাপক পুলিশি তৎপরতাও চোখে পড়ে।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক সংবাদ সূত্রে আক্রান্তদের সঠিক নাম, পরিচয় কিংবা ঘটনার বিশদ বিবরণ এবং দিনক্ষণ স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের অভাব রয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাতেই এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় এবং আক্রান্তদের ওপর চড়াও হয় সমাজবিরোধীরা। আক্রান্তদের পরিবারগুলি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের আইনি এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আক্রান্তদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন।

বিরোধী দলনেতা সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “রাজ্যের পুলিশ এখন শুধুমাত্র বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে ব্যস্ত। অথচ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বারুইপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি প্রকাশ্য দিবালোকে সমাজবিরোধীরা মাদক ব্যবসা চালায় এবং তার প্রতিবাদ করায় নাগরিকদের আক্রান্ত হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?” তিনি রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, দলদাস পুলিশ কর্মীদের জন্য আজ রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিচার পাচ্ছেন না। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার এই চরম অবনতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

কলকাতার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা ও হাওড়ার মতো জেলাগুলিতে যুবসমাজের মধ্যে মাদকের নেশা মরণ কামড় বসাচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বারুইপুরের এই ঘটনাটি সেই বাস্তব চিত্রটিকেই আরও একবার প্রকাশ্যে এনেছে। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজকর্মীদের মতে, প্রশাসনের উদাসীনতাই এই সংকটের প্রধান কারণ। শুভেন্দু অধিকারী এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, এই মাদক চক্র এবং অসামারিং কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর এবং দাবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় সূর্য ডোবার পর মহিলারা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন না। যত্রতত্র বসে মাদকের আসর। বারুইপুর থানার পুলিশকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। বিরোধী দলনেতা স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে আক্রান্ত পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন যদি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তবে তাঁরা বারুইপুর থানা ঘেরাও করার কর্মসূচি নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এই পরিদর্শনের পর বারুইপুরের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলনেতার সফরের পর পুলিশ আদৌ কোনো কড়া ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বারুইপুর এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। রাজ্য বিজেপি এই ঘটনাটিকে জেলা স্তরে বড় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র আকার ধারণ করেছে।