৫৫ হাজার কোটির কেন্দ্রীয় প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণের নির্দেশ শুভেন্দুর

রাজ্যের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত তৎপর হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে মূলত ৫৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয় এবং তিনি কাজের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস, জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো এবং কয়লা খনি উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকেই এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক শৈথিল্য এবং জমি সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে যে কাজগুলি বছরের পর বছর থমকে ছিল, সেগুলিকে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করার জন্য তিনি আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কয়লা এবং খনিজ শিল্পে আধুনিকীকরণের যে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কাজের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে তাকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জট খোলার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সড়ক পরিবহণ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে তিনি অমীমাংসিত সমস্যাগুলি সমাধানের পথ প্রশস্ত করেছেন। পেট্রোলিয়াম এবং গ্যাস প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার জটিল ধাপগুলি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতার মতে, এই প্রকল্পগুলি শুধুমাত্র উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং এগুলি বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে সরাসরি সাহায্য করবে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যাতে এই প্রকল্পগুলি আর একটি দিনও আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কয়লা ও খনি অঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তাতে তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ‘কেন্দ্রীয় নজরদারি’ হিসেবে দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মাঝপথে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। সেই সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা দূর করতেই তিনি সরাসরি তদারকিতে নেমেছেন।

উল্লেখ্য, ৫৫ হাজার কোটির এই বৃহৎ প্যাকেজের মধ্যে থাকা প্রতিটি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। তেল ও গ্যাস শিল্পে নতুন পাইপলাইন বসানো এবং হাইওয়ে নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করার কাজে গতি এলে শিল্পোদ্যোগীরা রাজ্যে নতুন করে বিনিয়োগের বিষয়ে আরও আগ্রহী হবেন। আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলির কাজ কোন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, সেটির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবে রাজ্যবাসী। আধিকারিকদের অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম গাফিলতিও বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে তিনি নিজেই নিয়মিত বিরতিতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।

প্রকল্পের রূপায়ণে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা বা অন্যান্য বাধার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ এখন জানা না গেলেও, বিরোধী দলনেতার এই কঠোর অবস্থান প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি যদি দ্রুত আলোর মুখ দেখে, তবে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র রাতারাতি বদলে যেতে পারে। এখন রাজ্য প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি এই নির্দেশ কতটা কার্যকর করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের মানুষ। উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হোক, এটাই এখন জনমতের দাবি।