পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে সরব রাহুল গান্ধী

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রতিবাদে সরব হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ওপর দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের পড়ুয়াদের ওপর এই ধরনের দমন-পীড়ন ভারতের সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী।

সোমবার সকালে দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন হাজার হাজার আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সংসদের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে যে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে, তার দায়ভার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অথচ সরকার এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত হতে শুরু করে, তখন দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগের আশ্রয় নেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যার ফলে বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদের কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়েছে এবং লাঠিচার্জ করা হয়েছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাহুল গান্ধী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “দেশের ভবিষ্যৎ হলো এই ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি দিয়ে কণ্ঠরোধ করা ভারতের পন্থা হতে পারে না। এই আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে গলদ রয়েছে, তা ঢেকে রাখতে সরকার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ক্ষোভের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে সম্প্রতি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-এর পরিচালনায় আয়োজিত পরীক্ষাগুলোতে যে অসংগতি ধরা পড়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের দাবিও উঠছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর দায় এড়াতে পারছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও এই বিশেষ বিক্ষোভ কর্মসূচি বা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরমহলে আলোচনার রেশ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা তাদের প্রাথমিক কর্তব্য এবং যথাযথ নিয়ম মেনে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

তবে পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবে না। তারা দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিকে পরীক্ষার ফল ঘোষণা ও কাউন্সেলিং নিয়ে জটিলতা, অন্যদিকে রাজপথে ছাত্রবিক্ষোভ—সব মিলিয়ে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক গভীর সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গোটা বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলেও উত্তাপ ছড়িয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরকারের ওপর চাপ তৈরির পরিকল্পনা করছে। সরকার এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।