জাতিসংঘের উপর ট্রাম্পের বড় আঘাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৩১টি জাতিসংঘ সংস্থা থেকে সরে আসার নির্দেশ

বিশ্ব মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি রাষ্ট্রপতি স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি জাতিসংঘ-বহির্ভূত এবং ৩১টি জাতিসংঘের সাথে যুক্ত সংস্থা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই সংস্থাগুলি এখন আমেরিকান জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

আমেরিকা কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিল?

হোয়াইট হাউসের মতে, যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির যুক্তরাষ্ট্র সদস্য বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে তারা আমেরিকান করদাতাদের তহবিলের বিচক্ষণ ব্যবহার করে না এবং বিশ্বব্যাপী এজেন্ডাগুলিকে মার্কিন অগ্রাধিকারের উপরে স্থান দেয়।

জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে “আমেরিকান সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য” এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উগ্র জলবায়ু নীতি, বৈশ্বিক শাসন এবং আদর্শিক কর্মসূচি প্রচার করে যা মার্কিন অর্থনীতি এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। এই সংস্থাগুলিতে আমেরিকান করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা সত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও উল্লেখযোগ্য সুবিধা পায়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় করবে, যা এখন মার্কিন অবকাঠামো, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রস্তুতি উন্নত করতে ব্যবহৃত হবে। তবে সমালোচকরা বিশ্বাস করেন যে এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতাকে দুর্বল করবে এবং বিশ্ব ব্যবস্থায় নতুন ফাটল তৈরি করতে পারে।

“আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিতে অগ্রাধিকার

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে যে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিলে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হবে। এখন, সেই অর্থ “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি অনুসারে ব্যয় করা হবে। এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি আমেরিকার স্বার্থ মাথায় রেখে কাজ করছিল না।