স্পোর্টস ডেস্ক: অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের নকআউট(Under-19 World Cup semi-final) পর্বের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাইশ গজে ঝড় তুললেন তরুণ তুর্কি ফয়জল শিনোজাদা। সেমিফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলে মাত্র ৮৬ বলে তাঁর এই বিধ্বংসী শতরান ক্রিকেট মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বড় মঞ্চে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়, তা এদিন নিজের ব্যাটিং শৈলীর মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণ করলেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার।ম্যাচের শুরু থেকেই ফয়জল ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ইনিংসের শুরুটা কিছুটা দেখেশুনে করলেও, উইকেটে থিতু হওয়ার পর তিনি বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালান। বিশেষ করে মিড-অফ এবং কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে তাঁর মারা ড্রাইভগুলো ছিল দেখার মতো। বিপক্ষ দলের পেসার থেকে স্পিনার, কাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং এবং অদম্য সাহসের মিশেল। যখনই বোলাররা লাইন বা লেংথ মিস করেছেন, তখনই ফয়জল তাঁকে সীমানার ওপারে পাঠাতে দ্বিধা করেননি। সেমিফাইনালের প্রবল চাপ সাধারণত তরুণ খেলোয়াড়দের ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলে, কিন্তু ফয়জলের ক্ষেত্রে দেখা গেল ঠিক উল্টো চিত্র। তিনি যেন এই বড় মঞ্চের জন্যই নিজেকে তৈরি করেছিলেন। ইনিংসের মাঝপথে যখন দলের রান রেট কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল, তখন একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোনো একের পর এক বড় শট গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাতোয়ারা করে তোলে। শতরানে পৌঁছাতে তিনি যে গতি ব্যবহার করেছেন, তা আধুনিক ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি ঘরানার কথা মনে করিয়ে দেয়। মাত্র ৮৬ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার পথে তিনি হাঁকিয়েছেন একগুচ্ছ চার এবং বিশাল সব ছক্কা।ফয়জলের এই ইনিংসটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দলের সামগ্রিক স্কোরে তা এক বিশাল অক্সিজেন যোগ করেছে। একটি শক্তিশালী ভিত তৈরি করে দিয়ে তিনি বোলারদের জন্য লড়াই করার মতো পুঁজি গড়ে দেন। মাঠের চারদিকে তাঁর শট নির্বাচনের দক্ষতা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কেন তাঁকে আগামীর তারকা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্পিন বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁর ফুটওয়ার্ক ছিল অত্যন্ত সাবলীল। ক্রিজ ব্যবহার করে বোলারের ছন্দ বিগড়ে দেওয়ার যে সহজাত ক্ষমতা তাঁর মধ্যে দেখা গেছে, তা সচরাচর এই বয়সের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিরল।ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস এবং গ্যালারির গর্জনই বলে দিচ্ছিল ফয়জলের এই ইনিংসের গুরুত্ব কতটা। বিপক্ষ অধিনায়ক একাধিক ফিল্ডিং পরিবর্তন করেও ফয়জলকে রুখতে ব্যর্থ হন। তাঁর এই অনবদ্য পারফরম্যান্স শুধু এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে সহায়তা করেনি, বরং প্রতিপক্ষ শিবিরের মনোবলেও বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে। সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে এমন এক ইনিংস খেলা যে কোনো তরুণ ক্রিকেটারের আজন্ম স্বপ্ন থাকে। ফয়জল শিনজাদা সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিলেন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে। খেলার শেষে বিশ্লেষকরা তাঁর ইনিংসটিকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত প্রদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ক্রিকেটের ব্যাকরণ মেনে খেলা স্ট্রোকের পাশাপাশি তাঁর উদ্ভাবনী শটগুলো ছিল আধুনিক ঘরানার সংমিশ্রণ। এই অসাধারণ ব্যাটিং তাণ্ডব নিশ্চিতভাবেই তাঁকে আগামী দিনের সিনিয়র দলের দরজায় কড়া নাড়তে সাহায্য করবে। তাঁর এই শতরানটি শুধু দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেনি, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে যে, কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে হয়। সামগ্রিকভাবে, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফয়জলের এই ৮৬ বলের সেঞ্চুরিটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।








