Waqf Bill: সরকার কেন ওয়াকফ বিল সংশোধন করছে? বিস্তারিত জেনে নিন

ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Bill) আজ অর্থাৎ ২ এপ্রিল সংসদে পেশ করা হবে। সরকার প্রথমে লোকসভায় সংশোধিত বিলটি পেশ করবে। অধিবেশনটি ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

২৯শে মার্চ, একটি বেসরকারি চ্যানেলের সাথে কথা বলার সময়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন যে এই অধিবেশনে (বাজেট অধিবেশন) ওয়াকফ বিল সংসদে পেশ করা হবে। সেই সময় শাহ বলেন যে এই বিল নিয়ে কারও ভয় পাওয়ার দরকার নেই। এই বিলের লক্ষ্য হল ওয়াকফ বোর্ডগুলিতে আরও জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা আনা এবং এই বোর্ডগুলিতে মহিলাদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তবে, এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে, আসুন এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বুঝতে চেষ্টা করি যে এই ওয়াকফ বোর্ড আসলে কী এবং সরকার কেন এতে সংশোধনী আনছে।

ওয়াকফ কী?

ওয়াকফ হলো একটি ইসলামী ঐতিহ্য যেখানে একজন ব্যক্তি তার সম্পত্তি স্থায়ীভাবে ধর্মীয়, সামাজিক বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। এই সম্পত্তি স্থায়ীভাবে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে আসে এবং সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই সম্পত্তি কৃষিজমি, ভবন, দরগা, মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল, কবরস্থান, ঈদগাহের মতো অনেক রূপে হতে পারে।

ওয়াকফ বোর্ড এবং এর ভূমিকা

ভারতে, প্রতিটি রাজ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ওয়াকফ (Waqf Bill) বোর্ড রয়েছে, যারা ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা করে। মোট, ওয়াকফ বোর্ডের ৯.৪ লক্ষ একর জমি এবং ৮.৭ লক্ষ সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলির মোট মূল্য আনুমানিক ১.২ লক্ষ কোটি টাকা, যা তাকে ভারতের বৃহত্তম জমির মালিকদের একজন করে তুলেছে। ওয়াকফ বোর্ডের ব্যবস্থাপনাগত ভুল এবং আইনি বিরোধের কারণে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি আদালতেও গেছে।

সরকার কেন ওয়াকফ আইন সংশোধন করছে?

১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনীর (Waqf Bill) মূল উদ্দেশ্য হল ওয়াকফ বোর্ডগুলির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা এবং তাদের ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা। বর্তমানে, ওয়াকফ বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তবে নতুন বিলের (Waqf Bill) অধীনে, এই বোর্ড সদস্যরা সরকার মনোনীত হবেন। এছাড়াও, ওয়াকফ সম্পত্তির নিবন্ধন এবং যথাযথ মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হবে যাতে সম্পত্তিগুলি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়।

সরকার বলছে যে ওয়াকফ বোর্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সম্পত্তির আরও ভালো ব্যবস্থাপনার জন্য এই সংশোধনী প্রয়োজন।

কোন পরিবর্তনগুলি প্রস্তাব করা হয়েছে?

ওয়াকফ সম্পত্তির নিবন্ধন: জেলা কালেক্টরের কাছে ওয়াকফ সম্পত্তি নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক হবে যাতে তাদের সঠিক মূল্য এবং অবস্থা মূল্যায়ন করা যায়।

বোর্ড সদস্য: নতুন বিল অনুসারে, ওয়াকফ (Waqf Bill) বোর্ডের সকল সদস্য এখন সরকার কর্তৃক মনোনীত হবেন। এতে, অমুসলিম ব্যক্তিরাও বোর্ডের সদস্য হতে পারবেন এবং কমপক্ষে দুজন সদস্যকে অমুসলিম হতে হবে। এছাড়াও, ওয়াকফ বোর্ডের সিইও একজন অমুসলিমও হতে পারেন।

মহিলাদের অংশগ্রহণ: বিলে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে সম্প্রদায়ে সমতা এবং প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ওয়াকফ বোর্ডগুলিতে মহিলাদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ থাকা উচিত।

মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধিতা এবং আপত্তি

যদিও সরকার স্বচ্ছতা ও সংস্কারের নামে এই সংশোধনী (Waqf Bill) আনছে, মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিরোধীরা এর বিরোধিতা করছে। তিনি বলেন যে এই সংশোধনী ওয়াকফ বোর্ডের কার্যক্রমে সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করবে এবং এর ফলে ধর্মীয় বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পাবে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ওয়াকফ বোর্ডগুলিতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হবে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আঘাত করবে।

জরিপ এবং মামলা

ওয়াকফ বোর্ডের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, কিন্তু এই সম্পত্তি সম্পর্কিত অনেক বিরোধ আদালতে চলছে। বর্তমানে, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে ৪০,৯৫১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ৯,৯৪২টি মামলা মুসলিম সম্প্রদায় ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করেছে। এই বিরোধগুলির মধ্যে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির অব্যবস্থাপনা এবং কর্মকর্তাদের অবহেলা।

ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত কি চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে?

হ্যাঁ, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সিদ্ধান্তকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বা ভুল ঘোষণা করতে পারেন অথবা এটি সংশোধন করতে পারেন।

ওয়াকফ বোর্ড কি কোনও সম্পত্তি দাবি করতে পারে?

ওয়াকফ বোর্ড কেবলমাত্র সেইসব সম্পত্তি দাবি করতে পারে যা ধর্মীয় ও সামাজিক কাজের জন্য নিবেদিত। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর ওয়াকফ বোর্ডের কোনও দাবি থাকতে পারে না।

ওয়াকফ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী (Waqf Bill) হল ওয়াকফ সম্পত্তির উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার এবং সেগুলিতে আরও স্বচ্ছতা আনার জন্য সরকারের একটি প্রচেষ্টা। তবে, মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিরোধী দলগুলি এর বিরোধিতা করছে, যারা এটিকে অসাংবিধানিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আক্রমণ বলে মনে করে। এখন দেখার বিষয় হলো এই সংশোধনী আইনটি শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর প্রভাব কী হবে।