লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি জাপানি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে তিনি ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উত্তরপ্রদেশের বর্তমান অবস্থানকে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, এক সময়ের ‘বিমারু’ (BIMARU) রাজ্য হিসেবে পরিচিত উত্তরপ্রদেশ আজ আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভারতের সামগ্রিক অর্থনীতির ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই পরিবর্তন কেবলমাত্র প্রশাসনিক সদিচ্ছার ফল নয় বরং সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি সুফল। আদিত্যনাথ জাপানি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য এখন এক চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে যেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা হয়েছে এবং শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় উত্তরপ্রদেশ গত কয়েক বছরে কানেক্টিভিটি এবং আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। গোরক্ষপুর থেকে নয়ডা এবং কানপুর থেকে বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক এবং আসন্ন বড় বিমানবন্দরগুলো পণ্য পরিবহণ ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। জাপানি সংস্থাগুলোর জন্য উত্তরপ্রদেশে অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং উত্তরপ্রদেশের বৌদ্ধ সার্কিট জাপানি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এক আবেগের জায়গা। তিনি বলেন, আমাদের সরকার জাপানি প্রযুক্তি এবং দক্ষতা ও উত্তরপ্রদেশের বিপুল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়। লজিস্টিক পার্ক এবং ডেটা সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের প্রথম সারির গন্তব্য। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘নিভেশ মিত্র’ নামক একক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি তিনি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এখন আর উত্তরপ্রদেশ পিছিয়ে থাকা কোনো প্রদেশ নয় বরং বিশ্বমানের পরিকাঠামো নিয়ে এটি নতুন ভারতের অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ। জাপানি প্রতিনিধিদের কাছে তিনি রাজ্যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সহায়তার শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাবি, রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানি প্রতিনিধি দলটির এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর ফলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানিদের শৃঙ্খলা এবং কারিগরি জ্ঞান উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের নতুন গতিপথ নির্ধারণ করবে।








