শুভেন্দুর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সমর্থন তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতার

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের একবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে চালানো আন্দোলনকে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানালেন তৃণমূলের এক বিদ্রোহী নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই নেতা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দলের নেতৃত্বের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, ওই নেতা রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরে চলা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, শুভেন্দু অধিকারী যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যদিও এই বিদ্রোহীর নাম এবং তার সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই, তবে তার এই মন্তব্য তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বিদ্রোহী ওই নেতার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তার মতে, দলের সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকদের একাংশ নেতৃত্বের কার্যকলাপে অত্যন্ত হতাশ। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে এবং যারা সত্যি কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাদের কোণঠাসা করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারীর ‘দুর্নীতি বিরোধী অভিযান’কে সমর্থন জানানোয় এটি স্পষ্ট যে, শাসকদলের একাংশ এখন বিরোধী শিবিরের বক্তব্যের সাথে সুর মেলাতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনের আগের এই জাতীয় মন্তব্য দলের অন্দরে ফাটল চওড়া করতে পারে। তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীরা শাসকদলকে কোণঠাসা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ নতুন করে অক্সিজেন জোগাল বিরোধী শিবিরের কাছে। যদিও তৃণমূলের মুখপাত্ররা বরাবরই এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, এগুলো বিরোধীদের চক্রান্ত এবং জনবিচ্ছিন্ন কিছু নেতাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

তবে এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য কতটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দলীয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তবে শাসকদলের অন্দরের এই মতপার্থক্য যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বস্তুত, এই বিদ্রোহের নেপথ্যে থাকা কারণগুলো আরও গভীরে। ওই নেতা স্পষ্টভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক কৌশলের সমালোচনা করেছেন। তার এই মন্তব্যে রাজ্য সরকারের একাধিক দফতরের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারের দুর্নীতির লাগাম টানতে যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা নেওয়া হয়নি। যার ফলে সাধারণ মানুষ সরকারের ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলছেন।

পরিশেষে, রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এই ধরনের মন্তব্য যে শাসকদলের অন্দরমহলে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে নিজেদের ঘর কীভাবে গুছিয়ে নেয়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিরোধী দলনেতার আন্দোলনের প্রতি দলের ভেতর থেকেই সমর্থন আসাটা শাসকদলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর থাকবে।