আলু রফতানিতে কুইন্টাল প্রতি ১০০ টাকা ভর্তুকি রাজ্যের, সিদ্ধান্ত সরকারে

রাজ্যে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত আলু ভিন রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলতি মরসুমে আলুর ফলন এবং জোগান স্বাভাবিক থাকার পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত উদ্বৃত্তের কথা মাথায় রেখে রাজ্য কৃষি বিপণন দফতর এই বিশেষ ভর্তুকি প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষকদের স্বার্থরক্ষা এবং আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন হিমাগার থেকে ট্রেনে করে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে কুইন্টাল প্রতি ১০০ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হবে। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো, রাজ্য থেকে যাতে দ্রুত বিপুল পরিমাণ আলু ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া যায় এবং তার ফলে স্থানীয় বাজারে আলুর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকে। গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যে আলুর দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের তরফ থেকেও এবিষয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে একাধিকবার রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। তবে বর্তমান বিজেপি সরকার এই ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় আলুর রফতানি সংক্রান্ত নানা বিধিনিষেধ এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়তেন বলে অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, মূলত রেল পরিবহণকে উৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়কপথে আলু পাঠাতে যে পরিমাণ সময় ও খরচ হয়, রেলের মাধ্যমে সেই খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। রাজ্যের এই ভর্তুকি কৃষকদের সরাসরি লাভবান করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কৃষি বিপণন দফতরের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু মজুদ রয়েছে। যদি এই উদ্বৃত্ত আলু সঠিক সময়ে ভিন রাজ্যে না পাঠানো যায়, তবে হিমঘরে জায়গার অভাব দেখা দিতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে আগামী মরসুমের আলুর দামের ওপর। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই তড়িঘড়ি এই ভর্তুকির ঘোষণা করা হয়েছে। হিমাগার মালিক সংগঠনগুলো সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, রেলের মাধ্যমে আলু পাঠালে পরিবহণ খরচ কমে, ফলে ব্যবসায়ীদের মুনাফার পরিমাণ স্থিতিশীল থাকে।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাসক দল বিজেপি চাইছে কৃষকদের আস্থা অর্জন করতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে। এই ভর্তুকি প্রকল্পটি কতদিন চলবে বা এর জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে কৃষি দফতরের দাবি, খুব শীঘ্রই সমস্ত জেলার হিমাগার মালিক এবং আলু ব্যবসায়ীদের এই নতুন নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠানো হবে। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী এবিষয়ে জানান, রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে যেন সাশ্রয়ী মূল্যে আলু পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অতীতে আলুর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। সেই পরিস্থিতি সামলাতে সরকার একাধিকবার খোলা বাজারে কম দামে আলু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই রেল ভর্তুকি প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার পরিকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই নতুন ভর্তুকি প্রকল্প কতটা কার্যকরভাবে রূপায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তি পান।