বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন নিম্নচাপ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে কি না, তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিস্টেমটি আপাতত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নিম্নচাপ কোন পথে এগোবে এবং তা কতটা শক্তিশালী হবে, সে বিষয়ে আবহাওয়া দপ্তর আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকাকালীন সময়েও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় রাজ্য যে তৎপরতা দেখাত, বর্তমান শাসকদল বিজেপি সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন দলীয় মুখপাত্ররা। যদিও বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিরোধী দলনেতারা দাবি করেছেন যে, নিচু এলাকাগুলিতে জল জমা রোধে এবং ত্রাণ বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়।
আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে যে, নিম্নচাপের অবস্থান এবং বাতাসের গতিবিধির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী আপডেট দেওয়া হবে। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণাবর্তটি আগামী দিনে কতটা শক্তি সঞ্চয় করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষকে আপাতত আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়ার খবরের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা শহরের আকাশ সারাদিন আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা দ্রুত করা সম্ভব হয়।
পুরসভা এবং জেলা প্রশাসনকে বৃষ্টির কারণে জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় নিকাশি ব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া সংক্রান্ত যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে শুধুমাত্র দপ্তরের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার আবেদন জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হতে পারে, তাই উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কোনো পূর্বাভাস না থাকলেও, এই ধরনের প্রাকৃতিক সিস্টেমগুলো অনেক সময় হঠাৎ শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে, তাই আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলাশাসককে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবাসহ অন্যান্য জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে জেলা ভিত্তিক বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলোকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া দপ্তর যে বুলেটিন প্রকাশ করবে, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিম্নচাপের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সংবাদমাধ্যমের আপডেটের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








