ধর্ম নিয়ে বাম ও তৃণমূলের অবস্থান তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ রাজ্য রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি বামফ্রন্ট এবং বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, বামপন্থীরা অতীতে ধর্মকে ‘আফিম’ বলে অভিহিত করে বাঙালির সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, বর্তমান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।

কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, সনাতন সংস্কৃতি রক্ষা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণ যেভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের চিত্র বদলেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বাম জমানায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলোকে যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে গিয়েই মানুষ আজ রুখে দাঁড়িয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বামেদের সেই পুরোনো রাজনৈতিক দর্শন আজও রাজ্যের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান সরকার তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে আরও বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য তারা বাঙালি আবেগকে ভুল খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল রাজ্যের মূল অস্তিত্ব মুছে ফেলে তাকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আদলে গড়ে তোলা। তবে বাংলার মানুষ সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী আজ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, সনাতন ধর্ম এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রধান মন্ত্র।

উল্লেখ্য যে, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি এদিনের ভাষণে বলেন, যারা ধর্মের নামে বিভাজন করতে চায় বা ধর্মের আড়ালে রাজনীতি করে, তারা মূলত বাংলার শত্রু। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও উল্লেখ করেন, অতীতে রাজ্যে যেভাবে তোষণ বা তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলেছে, তা রাজ্যের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে স্বাধীনভাবে তাদের উৎসব পালন করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সবশেষে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নয়নের মূলস্রোতে সবাইকে সামিল হতে হবে এবং কোনো প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। বাংলার মাটি ও মানুষের স্বার্থে সরকার সবসময় কাজ করে যাবে এবং কোনো ধরণের অপশক্তিকে বাংলার সংস্কৃতি দখল করতে দেওয়া হবে না। এই ভাষণের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির এক বিশেষ ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনুষ্ঠানের শেষে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সত্যের জয় অনিবার্য এবং সনাতন ধর্মের পথই হলো ন্যায়বিচারের পথ। যদিও এই বক্তব্যের বিস্তারিত খুঁটিনাটি বা প্রেক্ষাপট নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমরা পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষায় রয়েছি।