মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরেই নাবালিকা গর্ভধারণ মামলায় প্রথম সাজা

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নাবালিকা গর্ভধারণ সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন, তার প্রথম বড় সাফল্য ধরা পড়ল আদালতের রায়ে। রাজ্যে শাসন ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই নারী নিরাপত্তা এবং নাবালিকাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের প্রতিফলন হিসেবেই এবার একটি নাবালিকা গর্ভধারণ মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় দিল আদালত।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিশেষ পকসো আদালতগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নাবালিকা গর্ভধারণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি যেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা হয়। গত কয়েক মাস ধরে এই বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বরাবরই সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপে রাজনীতিকরণের অভিযোগ এনেছে, কিন্তু প্রশাসনিক মহলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর মনোভাবই অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, আইন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় এবং বিচার প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় অভিযুক্তকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে। বিচারক তার রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নাবালিকাদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও একাধিকবার জনসভা ও প্রশাসনিক বৈঠকে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হার বেড়েছিল। বর্তমানে বিজেপি সরকার সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত বিচারের নজির স্থাপন করছে।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই রায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। সাধারণত এ ধরনের মামলায় দীর্ঘ কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়, যার ফলে সাক্ষীরাও অনেক সময় বয়ান পরিবর্তন করেন বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু এবার সরকারের তরফ থেকে পাবলিক প্রসিকিউটরদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন কোনোভাবেই মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের দ্রুত রায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

রাজ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীদের সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার। বিরোধীরা এই বিষয়ে বিতর্ক করলেও, সরকারি আধিকারিকরা মনে করছেন, এই কঠোর অবস্থানের ফলে অপরাধীরা আর পার পাবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সমাজকর্মীরাও। তারা বলছেন, দ্রুত বিচারই হলো প্রকৃত ন্যায়বিচার। তবে মামলার বিস্তারিত নথিপত্র এবং অভিযুক্তের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় গোপনীয়তার খাতিরে প্রকাশ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশিকা মেনেই সংবেদনশীল এই মামলার যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, এই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলি আরও জোরদার করা হবে।

এই ঘটনার পর থেকে রাজ্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানায় নারী সুরক্ষা সেলগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে যাতে ঘটনার শুরুতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সরকারের এই সমন্বিত প্রয়াস আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের প্রতিটি নাগরিক আশা করছেন, এই ধরনের কঠোর শাস্তি অপরাধীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী বার্তা পৌঁছে দেবে।