ইসকন বিশ্বজুড়ে মানবসেবায় অনন্য ভূমিকা পালন করছে: মায়াপুরে অমিত শাহ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নদীয়া জেলার মায়াপুরে অবস্থিত ইসকন (ISKCON) সদর দফতরে আয়োজিত একটি বিশেষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি সংগঠনের নানা সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যাবলীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। শাহ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, সারা বিশ্বে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সনাতন ধর্মের পতাকাবাহী হিসেবে ইসকন যে কাজ করে যাচ্ছে তা অবিস্মরণীয়। তিনি বলেন, স্বামী প্রভুপাদ যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আজ তা কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন মায়াপুরের নির্মীয়মাণ চন্দ্রোদয় মন্দিরের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, কেবল মন্দির নির্মাণ বা ধর্মীয় প্রচার নয়, বরং মহামারীর সময় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে ইসকন যেভাবে সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছে, তা প্রকৃত মানবধর্মের পরিচয় বহন করে। ইসকনের এই সেবামূলক মনোভাবকে বিশ্বের দরবারে ভারতের এক বিশেষ সম্মান হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য সন্ন্যাসী ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে অমিত শাহ বলেন, আগামী দিনে ভারতের আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মায়াপুর এক অনন্য স্থান দখল করবে। ভারত সরকারও এই অঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভক্তি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র এই নবদ্বীপ তথা মায়াপুর থেকেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সংকীর্তনের মাধ্যমে প্রেম ও সৌভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দিয়েছিলেন, যা আজও ইসকন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে। শাহের এই সফরকে কেন্দ্র করে মায়াপুর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। ইসকন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাধা-মাধবের আরতি দর্শন করেন এবং বিশেষ প্রসাদ গ্রহণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে মানুষের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে আধ্যাত্মিকতার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। ইসকন সেই কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করে চলেছে। ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐহিত্যের পুনর্জাগরণে এই সংগঠনের অবদান আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। এই সফরের সময় তাঁর সাথে ছিলেন বিজেপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা ও পদাধিকারীবৃন্দ। মায়াপুরে আসার আগে তিনি স্থানীয় মানুষের সাথেও সৌজন্য বিনিময় করেন। অমিত শাহের এই সফরের পর মায়াপুরকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। সব মিলিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি ইসকন এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি তাঁর বক্তৃতার শেষে বলেন, ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার পথে এগোচ্ছে এবং এতে আধ্যাত্মিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। ইসকনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই লক্ষে অবিচল থেকে কাজ করে যাচ্ছে।