কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভোটের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপরতা বেড়েছে বাম শিবিরের। সিপিএম তথা বামফ্রন্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৬০টি আসনেই আসন রফা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বুধবার বিকেলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। মূলত বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে এই সমঝোতা হলেও, কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট বামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা জারি রয়েছে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জানান যে, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে রুখতে ভোট ভাগাভাগি বন্ধ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এবারের আসন বণ্টনে তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলের অন্দরের খবর। বিশেষ করে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের পরিচিত মুখদের জন্য বেশ কিছু নিশ্চিত আসন রাখা হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ভোট শতাংশের যে হেরফের হয়েছিল, তা মাথায় রেখেই প্রতিটি কেন্দ্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করে এই ২৬০টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। সিপিএমের এক শীর্ষ নেতা জানান, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। তবে কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন জেলাগুলোতে কিছু হেভিওয়েট আসন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে সূক্ষ্ম আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত তালিকার অপেক্ষা করা হচ্ছে। বাম নেতৃত্ব মনে করছেন, বাকি ৩৪টি আসনের বিষয়েও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির ইস্যুকে সামনে রেখে এই জোট নির্বাচনী ময়দানে ঝাঁপাতে চাইছে। গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের সমস্যা এবং চা বলয়ে শ্রমিকদের বঞ্চনাকে প্রচারে মূল হাতিয়ার করা হবে। ২৬০টি আসনে সমঝোতা হওয়ার অর্থ হলো জোটের ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। বিরোধী দলগুলোর পাল্টা দাবি, বাম-কংগ্রেস সমঝোতা কেবল ভোট কাটাকাটির রাজনীতি। তবে বামফ্রন্ট অনড় তাদের অবস্থানে। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বুথ স্তরে সংগঠনের শক্তি ফিরে আসছে এবং এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই শাসক দলকে কড়া টক্কর দেবে। প্রচারে এবার ডিজিটাল মিডিয়া এবং সশরীরে জনসংযোগ—উভয় পদ্ধতিকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে আলিমুদ্দিন। আসন রফার এই অগ্রগতির ফলে জেলা স্তরের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বাকি ৩৪টি আসনের জটিলতা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা কবে ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ২৬০টি আসনের সমঝোতা রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণকে নতুন মাত্রা দেবে। সিপিএমের এই কৌশলগত অবস্থান তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের জন্যই মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। শেষ মুহূর্তের এই প্রস্তুতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এবারের লড়াই হবে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি এবং প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব হবে অপরিসীম। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।








