পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফের জালে বড়সড় ওটিপি কেলেঙ্কারি, গ্রেফতার ২ অভিযুক্ত

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখা এসটিএফ (STF) বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ চক্রের হদিস পেয়ে। গোয়েন্দাদের দাবি, এই চক্রটি সাধারণ মানুষের সিম কার্ড ব্যবহার করে তৈরি করা ওটিপি (OTP) বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড সরাসরি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর কাছে পাচার করছিল। এই ঘটনায় উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে যে, তারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড সংগ্রহ করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি মূলত ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল ওয়ালেট হ্যাক করার উদ্দেশ্যে এই ওটিপিগুলি ব্যবহার করত। এসটিএফ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তিরা মূলত প্রলোভন দেখিয়ে প্রান্তিক মানুষের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম তুলত। এরপর সেই নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলা হত। সেই অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস বা ভেরিফিকেশন কোড অর্থাৎ ওটিপি একটি বিশেষ অ্যাপ বা পোর্টারের মাধ্যমে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে বড় কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। তল্লাশি অভিযানে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার সিম কার্ড, বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে এই ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তবে এবারের গ্রেফতারি পাকিস্তানের সাথে সরাসরি যোগসূত্র থাকায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই চক্রের জাল শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বরং ভারতের প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও ছড়িয়ে রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সরাসরি সমঝোতা করার এই হীন প্রচেষ্টাকে রুখতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথেও তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে। পাকিস্তান ভিত্তিক এই হ্যান্ডলাররা কীভাবে এই দেশীয় এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডার্ক ওয়েব বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার এই অপরাধে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যাতে এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি নতুন ধরণের ডিজিটাল যুদ্ধ বা ‘প্রক্সি ওয়ার’ যেখানে ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে পুলিশ জানিয়েছে, অপরিচিত কাউকে নিজের ফোনের ওটিপি শেয়ার না করতে এবং সন্দেহজনক কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করতে। উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক সরঞ্জামগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে এই বিশাল নেটওয়ার্কের আরও তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।