পশ্চিমবঙ্গের আরও ৫৭টি বহুতলে ভোটকেন্দ্র গড়ছে নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। মূলত শহরাঞ্চলের ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে এবং লম্বা লাইন এড়াতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ৫৭টি অতিরিক্ত আবাসিক হাই-রাইজ বা বহুতল ভবনে নতুন পোলিং স্টেশন বা ভোটকেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আবাসন এলাকার বাসিন্দারা যাতে নিজেদের পরিচিত পরিবেশেই ভোট দিতে পারেন এবং এর মাধ্যমে সামগ্রিক ভোটদানের হার বাড়ানো সম্ভব হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরি করে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই সফলতার ভিত্তিতেই এবার কলকাতার পার্শ্ববর্তী এলাকা যেমন সল্টলেক, রাজারহাট, নিউ টাউন এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বড় আবাসন কমপ্লেক্সগুলোকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক ভোটার এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা নাগরিকরা মূল রাস্তা পেরিয়ে দূরে ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। এই সমস্যা দূর করতেই কমিশনের এই মাস্টারপ্ল্যান। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব আবাসনে ৩০০ থেকে ৪০০-এর বেশি ভোটার রয়েছেন, সেখানে নিজস্ব বুথ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে। তবে বহুতলের ভেতরে বুথ তৈরির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলিও রয়েছে। যেমন, ভোটকেন্দ্রটি হতে হবে গ্রাউন্ড ফ্লোর বা নিচতলায় এবং সেখানে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত খোলামেলা জায়গা থাকতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিও আবশ্যিক করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশ সাধারণত ভোটের দিন ছুটি হিসেবে কাটান বা রোদে লাইনে দাঁড়ানোর ভয়ে বুথমুখো হন না। এবার ঘরের দরজায় ভোটকেন্দ্র আসায় সেই অনীহা অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলাশাসক ও নির্বাচনী আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এই ৫৭টি আবাসন পরিদর্শন করে পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছেন। কমিশনের এই পদক্ষেপে নাগরিক সমাজ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিলেও বেশিরভাগই একে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব আবাসনে কয়েক হাজার মানুষের বাস, সেখানে ভোট পরিচালনা করা প্রশাসনের জন্যও কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, বহুতলের ভেতরে বুথ হলেও বাইরের ভোটারদের প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তার প্রোটোকলে কোনো আপস করা হবে না। ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদেরও এই কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু যে ভোটদান সহজ হবে তাই নয়, বরং নির্বাচন পরিচালনার আধুনিকীকরণে পশ্চিমবঙ্গ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। তবে আপাতত এই ৫৭টি নতুন সংযোজন আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি আবাসনের আবাসিক কমিটির সাথেও সমন্বয় সাধন করছে প্রশাসন যাতে ভোটদানের দিন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।