কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ও লোকসভা উপ-নির্বাচন বা সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের প্রধান দাবি হলো, ভোটার তালিকায় কোনো প্রকার অসংগতি বা ভুয়া ভোটারের নাম থাকা চলবে না। সোমবার কলকাতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জানান, বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটার তালিকায় অসংখ্য ভুলভ্রান্তি দেখা গেছে, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনী ফলাফলে পড়েছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নাম দ্বৈতভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সমস্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক ত্রুটি দূর করা নির্বাচন কমিশনের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, যদি এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১৮০ দিন বা তার বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে কমিশনকে সেই সময় নিতে হবে। তড়িঘড়ি করে একটি অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ তালিকা প্রকাশ করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দলের এক প্রতিনিধি জানান, ‘আমরা চাই প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত হোক, কিন্তু কোনোভাবেই যেন বহিরাগত বা ভুয়া ভোটাররা গণতন্ত্রের এই উৎসবে অনধিকার চর্চা করতে না পারে।’ কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তারা আরও বলেন, তালিকা সংশোধনের সময় গ্রাউন্ড লেভেলে গিয়ে কাজ করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রদান করা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা এবং নির্দিষ্ট জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যেখানে ভোটার সংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, সেখানে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। রাজ্য রাজনীতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে সরব হয়েছে। তবে বিজেপির এবারের এই ১৮০ দিনের আল্টিমেটাম বা সময়সীমার প্রস্তাবটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ হলে তা শাসক দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, আর সেই কৌশলগত জায়গা থেকেই বিজেপি এই চাপ বজায় রাখছে। এছাড়া ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কীভাবে স্বচ্ছতা আনা যায়, সে বিষয়েও বিজেপি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কমিশনকে জমা দিয়েছে। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে যে তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি পরিচ্ছন্ন তালিকা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য—সময়সীমার চেয়ে নির্ভুলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই দাবিতে তারা প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন বা আইনি লড়াইয়ের পথও বেছে নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই চাপের মোকাবিলা করে এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখতে একটি নিরপেক্ষ ভোটার তালিকার কোনো বিকল্প নেই বলে বিজেপি তাদের বক্তব্যে কঠোরভাবে জোর দিয়েছে। পরিশেষে, বিজেপির এই কঠোর অবস্থানের ফলে কমিশন তাদের কার্যপ্রণালীতে কোনো বিশেষ পরিবর্তন আনে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের নিজস্ব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলার রাজনীতিতে এই ইস্যুটি যে প্রধান হয়ে উঠবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।







