কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) কার্যকলাপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ সাত মাস ধরে নিজের সন্তানকে কাছে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এক দম্পতি। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন ওই শিশুকে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিতে দেরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। মামলার শুনানিতে উঠে আসে যে, সিডব্লিউসি অত্যন্ত অমানবিক ও যান্ত্রিকভাবে গোটা বিষয়টি পরিচালনা করেছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, একটি শিশুর ভবিষ্যতের প্রশ্নে এবং তার অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিচারপতি উল্লেখ করেন, আইনের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন শিশুকে তার জন্মদাতা পিতা-মাতার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা এক প্রকার মানসিক নির্যাতনের শামিল। মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেছেন যে, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক আসা সত্ত্বেও সিডব্লিউসি নানা টালবাহানা করে আসছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সিডব্লিউসি-র মতো একটি সংবেদনশীল সংস্থাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ঘটনার গভীরে গিয়ে আদালত আরও জানিয়েছে যে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা দরকার। শুনানির শেষে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, অবিলম্বে শিশুকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় যেন আর কোনো অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি না করা হয়। এই মামলার রায় আগামী দিনে শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং সিডব্লিউসি-র কাজের ধরনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে এই ধরণের কঠোর বার্তা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে আইনজীবীদের একাংশের মত। রাজ্যের সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে থাকা এই কমিটির কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। আগামী শুনানিতে সিডব্লিউসিকে তাদের কাজের কৈফিয়ত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, হাইকোর্টের এই ভর্ৎসনা প্রশাসনিক স্তরে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দিল যে, শিশুর স্বার্থ রক্ষায় কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। আদালতের এই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকেও তদারকি করার কথা বলা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে সরকারি হোমে রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশের কপি পৌঁছানোর সাথে সাথেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটলেও, সিডব্লিউসি-র এই নিষ্ক্রিয়তা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিচারপতির তীক্ষ্ণ মন্তব্য ছিল, “আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়।” বিশেষ করে যখন প্রশ্নটি একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে, তখন সংবেদনশীলতা হওয়া উচিত ছিল প্রধান অগ্রাধিকার। আদালত এই মামলার পরবর্তী আপডেট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে বলেও আশ্বস্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকেও বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতি।








