কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের একক বেঞ্চে মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা একটি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর গতিবিধির ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে এবং পুলিশি তৎপরতার নামে তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়ে একটি বিশদ রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার মূল বিষয়বস্তু হলো, একজন জনপ্রতিনিধি এবং সাংবিধানিক পদের অধিকারী হিসেবে তাঁর অবাধ চলাচলের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে কি না। শুনানির সময় শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী দাবি করেন যে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর মক্কেলকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশি অনুমতি পেতে দেরি করা হচ্ছে অথবা শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়াও, তাঁর কনভয় আটকানোর মতো ঘটনাও বারবার ঘটছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্য প্রশাসনের নেই। আদালত এই পাল্টাপাল্টি যুক্তি শোনার পর রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন আগামী শুনানির আগে একটি হলফনামা আকারে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে, ঠিক কী কারণে শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচিতে বা চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে অথবা আদৌ কোনো হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে কি না। বিচারপতি সেনগুপ্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির চলাচলের স্বাধীনতায় অহেতুক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগেও একাধিকবার নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন এবং আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে এই মামলাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরোধী শিবির মনে করছে, এই রিপোর্টের মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এই মামলার রায়ের ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী নেতাদের গতিবিধি এবং পুলিশের ভূমিকা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কলকাতা হাইকোর্টের এই পদক্ষেপকে শুভেন্দু শিবিরের পক্ষ থেকে নৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই মামলাটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে কারণ এটি সরাসরি একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদের নিরাপত্তা ও অধিকারের সাথে যুক্ত। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুলিশকে তাদের রিপোর্টের সপক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও হাজির করতে হবে। আদালত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে পরবর্তী শুনানিতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।







