তৃণমূলের রাজ্যসভা প্রার্থী রাজীব কুমার, কোয়েল মল্লিক ও বাবুল সুপ্রিয়

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাদের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) রাজীব কুমার, বর্তমান রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য বাবুল সুপ্রিয়, জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে এই চার প্রার্থীর জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত দলের প্রথাগত রাজনৈতিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এক আমূল পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজীব কুমার, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে সংসদীয় কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাবুল সুপ্রিয়র মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকের অন্তর্ভুক্তি দলকে উচ্চকক্ষে আরও শক্তিশালী করবে। বাবুল সুপ্রিয় এর আগে লোকসভার সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন, যা তাকে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতির অলিগলি বুঝতে সাহায্য করবে। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে। যদিও তৃণমূল বরাবরই চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের সংসদে পাঠিয়ে এসেছে, তবে কোয়েলের মতো একজন শীর্ষ সারির অভিনেত্রীর নাম আসায় তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর মনোনয়ন তৃণমূলের একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত চাল বলে মনে করা হচ্ছে। আইনি লড়াই এবং সাংবিধানিক বিষয়ে তার অগাধ পাণ্ডিত্য উচ্চকক্ষে দলের অবস্থানকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। মেনকা গুরুস্বামী এর আগে ভারতের বিচার ব্যবস্থায় সমকামিতার অধিকার নিশ্চিত করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ক্ষেত্রের দক্ষ মানুষদের সংসদে পাঠানোর মাধ্যমে তারা রাজ্যের স্বার্থ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চান। এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পেশাদার এবং মেধাবী সমাজকেও গুরুত্ব দিতে চাইছেন। রাজীব কুমারকে নিয়ে অতীতে নানা বিতর্ক থাকলেও দল যে তার ওপর আস্থাশীল, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই তালিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে, তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই প্রার্থীরা সংসদীয় বিতর্কের মান বৃদ্ধি করবেন এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করবেন। আগামী দিনে রাজ্যসভার এই চার প্রতিনিধি দিল্লির রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে ২০২৪ পরবর্তী জাতীয় প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের এই শিক্ষিত ও দক্ষ প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। রাজীব কুমারের প্রশাসনিক দক্ষতা, মেনকা গুরুস্বামীর আইনি প্রজ্ঞা, বাবুল সুপ্রিয়র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং কোয়েল মল্লিকের জনমোহিনী ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিরোধী লড়াইকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। এই চারজন প্রার্থীই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তৃণমূল ভবনের সূত্র মারফত জানানো হয়েছে, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং দলের বিধায়কদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।