তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী এবং কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহুয়া মৈত্র নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এক চরম লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি কমিশনের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি নোটিশের প্রেক্ষিতে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মৈত্র অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আসা যে কোনও চাপ বা কৌশল তিনি মাথা পেতে নেবেন না বরং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এর মোকাবিলা করবেন। মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমরা এই নোংরা খেলার শেষ পর্যন্ত লড়ব। জনগণের রায় এবং সত্যের জয় হবেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরণের আইনি লড়াই এবং বাকযুদ্ধ ভোটারদের মাঝে এক ধরণের মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই মৈত্রকে নানা ধরণের আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যার মধ্যে সংসদ থেকে বহিষ্কারের মতো ঘটনাও রয়েছে। তবুও তিনি দমে যাননি। কৃষ্ণনগরের রাজপথে প্রচারের সময় তিনি ক্রমাগত কেন্দ্রীয় সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। মৈত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ভয় দেখিয়ে তাঁকে স্তব্ধ করা যাবে না। প্রতিটি বুথে এবং আদালতের আঙিনায় এই লড়াই চলবে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং একে কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মহুয়া মৈত্র মনে করেন, এই ধরণের ঘটনা ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি করবে এবং শেষ পর্যন্ত এটি ভোটের বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনি রণকৌশলের অংশ হিসেবে তিনি এখন আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জনগণের দরবারে যাওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, জনগণই চূড়ান্ত বিচারক এবং তাদের কাছেই সব ষড়যন্ত্রের জবাব রয়েছে। প্রচারের বাকি দিনগুলোতে তিনি আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে বরং একে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। মহুয়া আরও যোগ করেন যে, অতীতেও তিনি অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এবং প্রতিবারই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন। কৃষ্ণনগরের লড়াই এখন আর শুধু একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, এটি এখন তাঁর কাছে আত্মসম্মান এবং আদর্শ রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত কমিশনের এই কঠোর অবস্থান মৈত্রের নির্বাচনি বৈতরণী পার করতে কতটা প্রভাব ফেলবে। তবে মৈত্র আত্মবিশ্বাসী যে, সত্যের জয় অনিবার্য।







