ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে ৬ নম্বর ফর্মের ওপর গুরুত্ব দিলেন বিএলওরা

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি যোগ্য কোনো নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক প্রশাসনিক বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যদি কোনো ভোটারের নাম তালিকা থেকে ভুলবশত বা অন্য কোনো কারণে বাদ পড়ে থাকে, তবে তাঁদের নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ বা ‘Form 6’ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সরাসরি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা স্থানীয় ক্যাম্পের মাধ্যমে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠিকানার পরিবর্তন বা দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতির কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ যায়। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ভোটাররা যখন ভোট দিতে যান, তখন বিড়ম্বনার শিকার হন। এই সমস্যা মেটাতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। বিএলওদের বলা হয়েছে, প্রতিটি এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিতে হবে কারা কারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং যাঁদের নাম ভুলক্রমে কাটা গেছে, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে তা জমা দিতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছ এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই এই কাজে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অফলাইনেও যাতে সাধারণ মানুষ সহজে আবেদন করতে পারেন, সেই পথ আরও মসৃণ করা হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার এই অভিযানকে সফল করতে জেলা স্তরেও বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হয়েছে যারা বিএলওদের কাজের তদারকি করবে। আবেদনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন ঠিকানার প্রমাণপত্র, বয়সের প্রমাণপত্র এবং ছবি সঠিকভাবে যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। একইসাথে জানানো হয়েছে, কোনো ভোটারের যদি নাম বা ঠিকানায় ছোটখাটো ভুল থাকে তবে তা সংশোধনের জন্য ৮ নম্বর ফর্ম ব্যবহার করতে হবে। তবে মূলত নাম নতুন করে তোলার ক্ষেত্রে ৬ নম্বর ফর্মই এখন প্রধান অস্ত্র। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, আসন্ন দিনগুলোতে ভোটার তালিকায় একটিও মৃত বা ভুয়া ভোটারের নাম থাকবে না, আবার যোগ্য কেউ বাদও যাবে না। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এই প্রচার অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং আগামীতে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় ক্লাব ও পঞ্চায়েত স্তরেও এই বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে যাতে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়টি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে। বিএলওদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা নির্ভুলভাবে ফর্ম পূরণ করতে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে পারেন। বিশেষত বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়ি গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।