তৃণমূলে যোগ দিলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন

পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র স্বপ্না বর্মন এবার রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন। শুক্রবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে যোগ দেন। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না ২০১৮ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করা এই অ্যাথলিটের রাজনীতিতে আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে স্বপ্না জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন, তা তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। স্বপ্না বলেন, ‘আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দিদি যেভাবে বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন করেছেন, তাতে আমি মুগ্ধ। আগামী দিনে ক্রীড়াক্ষেত্রের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।’

দলীয় সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে স্বপ্না বর্মনকে সামনের সারিতে রাখা হতে পারে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে স্বপ্নার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। ক্রীড়াক্ষেত্রের একাধিক ব্যক্তিত্ব এর আগেও তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে মনোজ তিওয়ারি বা লক্ষ্মীরতন শুক্লার মতো নাম রয়েছে। সেই ধারায় স্বপ্নার অন্তর্ভুক্তি দলীয় ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, স্বপ্নার শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। তাঁর বাবা রিক্সা চালাতেন এবং মা চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। ছয় আঙুলের সমস্যা নিয়েও তিনি যেভাবে অদম্য জেদ নিয়ে এশিয়ান গেমসে সাফল্য পেয়েছিলেন, তা সারা দেশের কাছে এক দৃষ্টান্ত। ক্রীড়া জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা এই অ্যাথলিট এখন কীভাবে নিজের নতুন ইনিংস সাজান, সেটাই দেখার বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য ‘সবুজায়নের’ পথে স্বপ্নার এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে।

রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্যরা স্বপ্নার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, স্বপ্নার মতো পরিশ্রমী এবং প্রতিভাশীল তরুণী রাজনীতিতে এলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আগামী দিনে স্বপ্নার হাত ধরে উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং যুবসমাজ রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হবে। সব মিলিয়ে স্বপ্নার যোগদানে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন খুশির মেজাজ তুঙ্গে। বাংলার মানুষের আশা, খেলার মাঠের মতো রাজনীতির ময়দানেও স্বপ্না সফল হবেন।