দিল্লির স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আজ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। শুক্রবার গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি শিশুদের জন্য একটি নতুন পুষ্টি প্রকল্প বা ‘নিউট্রিশন প্রোগ্রাম’ (Nutrition Programme) এবং একটি আধুনিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (ICU) উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দিল্লির সরকারি স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে থাকা শিশুদের সুষম খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদান করা এবং জটিল রোগের চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য শিশুদের সুস্বাস্থ্য অত্যন্ত জরুরি। আমাদের এই পুষ্টি প্রকল্প শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে।’ তিনি আরও জানান যে, জিটিবি হাসপাতালে নতুন আইসিইউ ইউনিটটি যুক্ত হওয়ার ফলে পূর্ব দিল্লির হাজার হাজার মানুষ উন্নত মানের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা খুব সহজেই হাতের নাগালে পাবেন। এই নতুন আইসিইউ ব্লকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে শুরু করে সমস্ত আধুনিক জীবনদায়ী সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি জানান যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দিল্লির অন্যান্য বড় হাসপাতালেও এই ধরণের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। মূলত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পুষ্টির অভাব দূর করতেই এই নতুন খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রোটিন ও ভিটামিনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, দিল্লি মডেলের প্রধান স্তম্ভ হলো শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য, এবং আজকের এই জোড়া পদক্ষেপ সেই পথেই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জিটিবি হাসপাতালের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে এখন থেকে আরও বেশি সংখ্যক রোগী একই সঙ্গে ইনডোর পরিষেবা পাবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শৈশবে যদি সঠিক পুষ্টি না দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই দিল্লি সরকার বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই ডায়েট চার্ট প্রস্তুত করেছে। পুষ্টি প্রকল্পের অধীনে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পুষ্টিকর হট-কুকড খাবার সরবরাহ করা হবে। একই সাথে আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধির ফলে কোভিড পরবর্তী স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাও অনেক সহজ হবে। সরকার আশাবাদী যে এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে রাজধানীর শিশু মৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নতি ঘটবে। দিল্লির সাধারণ মানুষও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যয়বহুল আইসিইউ পরিষেবার বদলে এখন সরকারি হাসপাতালেই বিশ্বমানের সুযোগ মিলবে। কেজরিওয়াল আরও যোগ করেন যে, কোনো শিশুই যাতে অপুষ্টির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্তরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্প চালানো হবে। সব মিলিয়ে আজকের এই অনুষ্ঠানটি দিল্লির স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক নিরাপদ ভিত্তি তৈরি করবে।







