রাজ্যসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূলের ৪ এবং বিজেপির ১ প্রার্থী

রাজ্যসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূলের ৪ এবং বিজেপির ১ প্রার্থী
রাজ্যসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূলের ৪ এবং বিজেপির ১ প্রার্থী

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত মসৃণভাবে সম্পন্ন হল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শক্তি অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চারজনকে এবং ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে একজনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর দেখা যায়, মাত্র এই পাঁচজনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ভোটাভুটির আর কোনো প্রয়োজন পড়ল না। রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেলেই এই পাঁচ প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে যারা রাজ্যসভায় যাচ্ছেন তারা হলেন সুস্মিতা দেব, সাগরিকা ঘোষ, মমতা ঠাকুর এবং মহম্মদ নাদিমুল হক। মমতা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, অন্যদিকে সাগরিকা ঘোষ একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। সুস্মিতা দেব এবং মহম্মদ নাদিমুল হককে দল পুনরায় সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূলের এই চার প্রার্থীর জয় আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল কারণ বিধানসভায় তাদের পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল শমীক ভট্টাচার্যকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা অনুযায়ী রাজ্যসভার একটি আসন তাদের প্রাপ্য ছিল। শমীক ভট্টাচার্যের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর অন্য কোনো দল বা নির্দল প্রার্থী সেই আসনে দাবি না জানানোয় স্ক্রুটিনি শেষ হতেই তাকেও জয়ী ঘোষণা করা হয়। এর ফলে রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পরেই নিয়ম অনুযায়ী শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে নবনির্বাচিত সাংসদদের হাতে। রাজ্য বিধানসভার এই নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণ বজায় রাখতে এই ফলাফল বড় ভূমিকা নেবে। আগামী দিনে দিল্লির রাজনীতিতে বাংলার এই পাঁচ প্রতিনিধি কতটুকু সওয়াল করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।

রাজ্য বিধানসভার অলিন্দে এই নির্বাচন নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা ছিল। তবে কোনো অতিরিক্ত প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরই তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল। বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে আজ চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হল। রাজ্যসভার এই পাঁচটি আসনে জয়ীদের তালিকায় অভিজ্ঞ এবং নতুন মুখের ভারসাম্য রাখা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।