নির্বাচনী সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর হুঁশিয়ারি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের

নির্বাচনী সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর হুঁশিয়ারি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের
নির্বাচনী সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর হুঁশিয়ারি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের

নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেষ কুমার সাফ জানিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হিংসা বা পেশী শক্তির ব্যবহারের কোনো জায়গা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের এই উৎসবে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

কমিশনারের মতে, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে রেষারেষি বা অশান্তি এড়াতে প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মূল মন্ত্রই হলো ‘জিরো টলারেন্স’। অর্থাৎ কোনো ছোটখাটো বিচ্যুতিকেও হালকাভাবে নেওয়া হবে না। নির্বাচনী অনাচার রুখতে ডিজিটাল নজরদারি এবং ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন টিমকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সতর্কবার্তার মাঝেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজর এড়িয়ে যায়নি পর্যবেক্ষকদের। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশ কিছু অংশে নাগরিকত্ব বা পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক ভোটারের নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সব ভোটারদের ভবিষ্যৎ বা তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়, তখন কমিশনার জ্ঞানেষ কুমার কার্যত নীরব ছিলেন। এই ভোটারদের ‘লিম্বো’ বা অনিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জ্ঞানেষ কুমার আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। ইভিএম কারচুপি বা বুথ দখল রুখতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের গতিবিধির ওপর সরাসরি নজরদারি চালানোর জন্য কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। কমিশনারের এই বার্তা প্রশাসনিক স্তরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সমস্ত জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই শান্তি বজায় রাখা যায়।

নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে যে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে কেউ পার পাবে না। কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং তা কাজেও প্রতিফলিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের সময় যাতে উস্কানিমূলক ভাষণ না দেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পরিশেষে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন যে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশন দায়বদ্ধ। তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের যে উদ্বেগ, তা নিরসনে কমিশন ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কমিশনের এই দ্বিমুখী অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিয়ে সংশয়ও রয়ে গিয়েছে।