পশ্চিম এশিয়া সংকট: ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর

পশ্চিম এশিয়া সংকট: ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর
পশ্চিম এশিয়া সংকট: ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে একটি দীর্ঘ টেলিফোনিক আলাপচারিতা করেছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন ইস্যু থেকে শুরু করে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে গোটা পশ্চিম এশিয়া একটি অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইরানের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে এই কথোপকথন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। জয়শঙ্কর ও আরাগচির আলোচনায় ঠিক কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ ঘটনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার কাছে আমেরিকার নৌবাহিনীর তরফে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সংবেদনশীল বিষয়টি এই দুই নেতার আলোচনার টেবিলে উঠেছিল কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারত বরাবরই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথে হাঁটার পক্ষপাতী।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র এবং কৌশলগত অংশীদার। চাবাহার বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা অপরিহার্য। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার গুরুত্ব রয়েছে। এই ফোনালাপ সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও গত ৪ মার্চের সেই ঘটনা অর্থাৎ আমেরিকার তরফে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভারত সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশের সংঘাতের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব নিয়ে চিন্তিত। জয়শঙ্কর ও আরাগচি তাঁদের কথোপকথনে এই জাতীয় আন্তর্জাতিক উত্তজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

আগামী দিনে এই আলোচনার রেশ ধরে ভারত ও ইরানের সম্পর্কের রসায়ন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নজরকাড়া বিষয় হবে। বিশেষ করে যেখানে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত শান্তির বার্তা দিচ্ছে, সেখানে ইরানের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নয়াদিল্লির বৈদেশিক নীতির একটি প্রধান স্তম্ভ।