নয়াদিল্লি: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রান্নার গ্যাস বা LPG অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতে অভ্যন্তরীণ LPG ব্যবহারের পরিমাণ এক টানা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্পের প্রসার এবং শহুরে এলাকার পাশাপাশি গ্রামীণ ভারতেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির কারণে এই চাহিদা বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে বড়সড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভারত তার মোট LPG চাহিদার এক বিশাল অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। এই আমদানির সিংহভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। ফলে সেই অঞ্চলে যে কোনও প্রকার সামরিক অস্থিরতা বা সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দরের ওপর। বর্তমান Middle East War ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ এর ফলে লজিস্টিক খরচ এবং বিমা প্রিমিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিগত কয়েক বছরে ভারত সরকার রান্নার গ্যাসের সংযোগ প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করেছে। তথ্য বলছে, দশ বছর আগে ভারতের যে পরিমাণ জনসংখ্যা LPG ব্যবহার করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে যদি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের পক্ষে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ফলে লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই রুটগুলি দিয়ে ভারতের জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। যুদ্ধের ফলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় বিমা সংস্থাগুলি তাদের প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিকৃত গ্যাসের ল্যান্ডিং কস্ট বা অবতরণ মূল্যের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের অস্থিরতা সরাসরি LPG-এর মূল্যের সঙ্গে যুক্ত। যদিও সরকার বিভিন্ন সময়ে ভর্তুকি বা অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর থেকে অতিরিক্ত দামের বোঝা কমানোর চেষ্টা করে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ভারতের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন রান্নার জন্য সরাসরি এই এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। গত দশ বছরে যে স্থির বিকাশের ধারা লক্ষ্য করা গিয়েছে, তা বজায় রাখতে হলে স্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেভাবে ডমিনো ইফেক্টের মতো কাজ করছে, তাতে ভারতের খুচরো বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দর পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি ভারতীয় উপভোক্তাদের পকেটে টান দিচ্ছে বলেই মত অর্থনৈতিক মহলের।








