নয়াদিল্লি: এক বড় পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় সরকার লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ কর্মী এবং সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA) অধীনে থাকা আটকাদেশ প্রত্যাহার করার ঘোষণা করেছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করেই সরকার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুক এবং তাঁর সহযোগীদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগের জেরে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়ন করে সরকার মনে করেছে যে এই আটকাদেশ আর বজায় রাখার প্রয়োজন নেই। ওয়াংচুক মূলত লাদাখের পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রক্ষাকবচের দাবিতে দিল্লির উদ্দেশ্যে একটি পদযাত্রার ডাক দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই এই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে সমন্বয় রক্ষা করে এই মুক্তির আদেশ জারি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং লাদাখের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষার দাবিতে সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থন যেমন রয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে বারংবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। এনএসএ প্রত্যাহারের ফলে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক বা সামাজিক পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রাথমিক ভাবে এই কড়া আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় মত প্রকাশের অধিকারের বিষয়টিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে লাদাখ সীমান্তে চলমান উত্তেজনার আবহে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি আধিকারিকদের মতে, নির্দিষ্ট আইনি ধারাগুলি পর্যালোচনার পর এই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক ভারতের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব এবং ম্যাগসাইসাই পুরস্কার বিজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবেশকর্মীদের বড় একটি অংশ এই আটকাদেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এনএসএ তুলে নেওয়ার ফলে আইনি লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায় শেষ হল। তবে ওয়াংচুকের মূল দাবিগুলি নিয়ে সরকারের সাথে আগামীতে আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।








