আমেরিকার বিদেশনীতিতে বদল, বাস্তব থেকে দূরে সরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

আমেরিকার বিদেশনীতিতে বদল, বাস্তব থেকে দূরে সরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
আমেরিকার বিদেশনীতিতে বদল, বাস্তব থেকে দূরে সরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতির এই আকস্মিক ও উদ্ধত মোড় ঘোরার পিছনে আসল যুক্তিটি ঠিক কী? এটি এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় আমেরিকার মতো একটি শক্তিশালী দেশের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যে ধরণের পরিবর্তন আসছে, তা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে যে ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিশ্বজুড়ে।

অনেক সমালোচকই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন অযৌক্তিক বা খামখেয়ালি খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত করতে পছন্দ করেন। তাঁরা মনে করেন যে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলি পূর্বপরিকল্পিত নয় এবং তার মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট যুক্তি নেই। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ট্রাম্পকে শুধুমাত্র একজন ‘অযৌক্তিক’ খেলোয়াড় হিসেবে দেগে দেওয়াটা আসলে একটি বিশ্লেষণী ফাঁকি বা সহজ পথ খোঁজার নামান্তর মাত্র। এই ধরণের সরলীকরণ প্রকৃত পরিস্থিতিকে আড়াল করে দিতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্রাশ বা উদ্ধত আচরণের আড়ালে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমেরিকা কি পরিকল্পিতভাবে তাঁর পুরোনো মিত্রদের থেকে দূরত্ব তৈরি করছে? নাকি বিশ্বায়নের ধারণা থেকে পিছিয়ে এসে নিজেদের একঘরে করে নেওয়ার পথে হাঁটছে দেশটি? ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আসলে বাস্তব প্রেক্ষাপটে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ উত্তরোত্তর বাড়ছে। বাস্তব পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রশাসনিক অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই প্রশস্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যখন দেশের দীর্ঘমেয়াদী বিদেশনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন তার ফলাফল সব সময় সুখকর হয় না। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে যে, তিনি প্রথাগত কূটনৈতিক পথ এড়িয়ে নিজস্ব স্টাইলে চলতে পছন্দ করছেন। এর ফলে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যেও এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা বা অবিশ্বাসের জন্ম নিচ্ছে।

বাস্তবতা থেকে এই বিচ্যুতি শুধুমাত্র একটি সাময়িক ঘটনা নয়, বরং এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্পের আমেরিকা যে পথে এগোচ্ছে, তা আদতে বিশ্ব শান্তিতে সহায়ক হবে নাকি অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে, সেটাই এখন বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। ট্রাম্পের যুক্তিহীনতা নিয়ে সমালোচনার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাঁর এই নতুন ধরণের বিদেশনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে নেওয়া এবং তার মোকাবিলা করা। আমেরিকা কি সত্যিই বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, নাকি এটিই তাঁদের নতুন রণকৌশল, তা সময়ই বলবে।