লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম আত্মসম্মান: আর জি করের ক্ষোভ ও বামেদের প্রত্যাখ্যান, ২০২৬-এর আগে বড় বদলের ইঙ্গিত বাংলায়
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার রাজনীতির দীর্ঘদিনের সমীকরণ এবার ওলটপালট হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ধরা হতো যে মহিলাদের, আজ সেই মহিলারাই শাসকদলের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির মিছিলে সেই মহিলাদের ভিড় চোখে পড়ছে, যারা একসময় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের’ কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। আর এর নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক ‘আর জি কর অভয়া কাণ্ড’, যা বাংলার নারী সমাজকে আমূল জাগ্রত করে তুলেছে।
ভাতা নয়, নিরাপত্তা ও বিচারই শেষ কথা
আর জি করের নৃশংস ঘটনার পর বাংলার মহিলারা বুঝেছেন যে, সামান্য কিছু টাকা বা সরকারি ভাতা দিয়ে জীবনের নিরাপত্তা কেনা সম্ভব নয়। ঘরের মেয়েদের সুরক্ষা যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে ভাতার রাজনীতি আর কাজ করছে না। সাধারণ মহিলারা এখন সরব— তারা বলছেন, “নিজেদের পাওনা সম্মান আর নিরাপত্তা ফেরাতে আমরা এখন বদ্ধপরিকর।” মিছিলে পা মেলানো মহিলাদের ভিড় প্রমাণ করছে যে, মমতা সরকারের ‘তাবেদারি’ করা সেই চেনা ছবিটা এখন অতীত।
বামপন্থীদের ‘সুযোগসন্ধানী’ রাজনীতি ও সচেতন মহলের অনীহা
অন্যদিকে, আর জি কর কাণ্ডকে হাতিয়ার করে বামপন্থীরা বাংলায় ফেরার যে স্বপ্ন দেখছে, তাতে জল ঢালছে বাংলার সচেতন নাগরিক সমাজ। বামেদের দাবি— তাদের আন্দোলনের জেরেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে এবং এর ফলে ২০২৬-এ তারা ভালো ফল করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে ওয়াকিবহাল মহল এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। মানুষের অভিযোগ, ‘অভয়া’ কাণ্ডের মতো একটি সংবেদনশীল এবং মর্মান্তিক বিষয় নিয়ে বামপন্থীরা যে ধরণের ‘নোংরা রাজনীতি’ শুরু করেছে, তা বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পরিপন্থী।
বামেদের প্রত্যাখ্যান ও বিজেপির উত্থান
বিশ্লেষকদের মতে, মানুষ আর বামেদের সেই পুরনো দিনগুলোতে ফিরতে চায় না। অভয়াকে নিয়ে যে ধরণের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা বাম নেতারা করছেন, তা দেখে বাংলার মানুষ তাঁদের প্রতি চূড়ান্ত বীতশ্রদ্ধ। সচেতন নাগরিকদের সাফ কথা— বামপন্থীদের এই ‘নাটক’ ২০২৬-এর নির্বাচনে ব্যুমেরাং হবে এবং মানুষ তাদের আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।
সোনার বাংলার লক্ষ্যে নারী শক্তি
বিজেপির মিছিলে মহিলাদের এই নজিরবিহীন উপস্থিতি ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে, দেশে মোদী সরকারের অধীনে নারীরা যেভাবে সুরক্ষিত এবং স্বাবলম্বী, সেই একই মডেল বাংলায় আসা প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ঘরের ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থান— সব ক্ষেত্রেই বিজেপির ওপর ভরসা রাখতে শুরু করেছে বাংলার নারী সমাজ।
তবে সব মিলিয়ে বাংলার পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। ভাতার রাজনীতিকে তুচ্ছ করে মহিলারা আজ রাস্তায় নেমেছেন নিজেদের অধিকার আর বিচারের দাবিতে। আর এই গণজোয়ারের ঢেউ যদি ২০২৬ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে নবান্নের দখল যে পরিবর্তন হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।








