নিজস্ব প্রতিনিধি, জগদ্দল: রবিবাসরীয় প্রচারের ভরা বাজারে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল। চারদিন আগে পুলিশের কাছে লিখিত অনুমতি নেওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস ডক্টর রাজেশ কুমারের সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করার অভিযোগ উঠল জগদ্দল থানার বিরুদ্ধে। পুলিশের এই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের প্রতিবাদে থানার সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপি কর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত
নির্বাচনী রণকৌশলে রবিবার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছেই তুরুপের তাস। এদিন বিজেপি প্রার্থী ডক্টর রাজেশ কুমারের একাধিক ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেইন ও মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। দলীয় সূত্রের দাবি, এই কর্মসূচির জন্য গত চারদিন আগেই পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ সকালে হঠাৎ করেই জগদ্দল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও মিছিল বা প্রচার করা যাবে না।
একসময়ের দাপুটে আইপিএস অফিসার ডক্টর রাজেশ কুমার নিজেই যখন প্রার্থী, তখন আইনি মারপ্যাঁচ তাঁর অজানা নয়। প্রচার বাতিলের খবর পেয়েই তিনি সশরীরে হাজির হন জগদ্দল থানায়। তাঁর প্রশ্ন— “যেখানে চারদিন আগে সমস্ত নিয়ম মেনে অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রচার শুরুর ঠিক আগে কেন এই নিষেধাজ্ঞা?”পুলিশের এই পদক্ষেপকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ‘গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে পুলিশি নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। বিজেপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও কয়েকশো কর্মী-সমর্থক জগদ্দল থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শ্লোগান ও দলীয় পতাকা নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় থানা সংলগ্ন এলাকা। প্রতিবাদীদের দাবি তৃণমূলের হয়ে ‘ক্যাডারের’ মতো কাজ করছে পুলিশ।
যতক্ষণ না পুনরায় প্রচারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ চলবে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুলিশের এই পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অভিযোগও জানানো হবে। রাজেশ কুমারের সমর্থকদের দাবি, ময়দানে বিজেপির জনসমর্থন দেখে ভয় পেয়েই শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ এই কাজ করছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, জগদ্দল থানার সামনে প্রবল উত্তেজনার আবহ বজায় রয়েছে। রাস্তায় বসে পড়েই বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। এর ফলে যানচলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ডক্টর রাজেশ কুমার কি আজ আদৌ প্রচারে নামতে পারবেন, নাকি রবিবারের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত আইনি ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে গিয়ে থামবে, এখন সেটাই দেখার।







