এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি)-এর সভাপতি ক্যাপ্টেন সি.এস. রান্ধাওয়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। রান্ধাওয়া বলেছেন যে, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) থেকে পাওয়া কয়েক সেকেন্ডের অডিওর ওপর ভিত্তি করে পাইলটদের দায়ী করার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি অংশ ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন পাইলটরা তাড়াহুড়ো করে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, তদন্ত শুধু ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে সীমাবদ্ধ না রেখে বিমানটির বৈদ্যুতিক, ইলেকট্রনিক এবং কম্পিউটার সিস্টেমগুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা উচিত। ক্যাপ্টেন রান্ধাওয়ার মতে, বোয়িং ৭৮৭ বিমানে এর আগেও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, লিথিয়াম ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ড, পানি চুইয়ে পড়া এবং ইলেকট্রনিক্স বে-তে পানি ঢুকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি দাবি করেছেন যে দুর্ঘটনার দিন এয়ার ইন্ডিয়ার ভিয়েনা-দিল্লি রুটের আরেকটি ফ্লাইটের ইলেকট্রনিক্স বে-তেও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং জল জমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
এফআইপি পাইলটদের লড়াই লড়ছে
এফআইপি তদন্তে আরও পাইলট, প্রকৌশলী এবং ফ্লাইট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা এ বিষয়ে সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ২০টিরও বেশি চিঠি পাঠিয়েছে।
বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে আবেদনও দাখিল হয়েছিল
রান্ধাওয়া বলেছেন যে, ক্যাপ্টেন সুমিত সভারওয়ালের বাবা পুষ্কর রাজ সভারওয়ালের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে একটি পিটিশনও দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন যে, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি থেকে প্রেরিত ACARS বার্তাগুলোর বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন, কারণ সেগুলোতে বিমানটির কারিগরি অবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
রান্ধাওয়া জোর দিয়ে বলেছেন যে, তদন্তের উদ্দেশ্য দোষারোপ করা নয়, বরং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা হওয়া উচিত।
২৬০ জন মারা গিয়েছিলেন
আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এ১-১৭১ উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরেই বিধ্বস্ত হয়ে ২৬০ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত বোর্ড (AAIB) এআই-১৭১ বিমান দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই দুর্ঘটনার জন্য পাইলটের অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, এএআইবি এখনো তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) এবং যুক্তরাজ্য সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ)-এর কাছে পাঠায়নি। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর নিয়ম অনুযায়ী এটি করা আবশ্যক, কারণ বিমানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হয়েছিল এবং যুক্তরাজ্য সিভিল এভিয়েশন অথরিটি তদন্ত প্রক্রিয়ার একটি অংশ ছিল।








